(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের আকাশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ (শুক্রবার) শুরু হচ্ছে নতুন বছর ১৪৪২ হিজরি। আগামী ৩০ আগস্ট রোববার (১০ মহররম) দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪২ সালের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে।

মুসলিম উম্মার জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। নফল রোজা, নামাজ, জিকির-দোয়া মাহফিলের ভেতর দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি পালন করেন। অন্যদিকে এটি শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই দিনটি পালনে তারা বিভিন্ন আয়োজন করে।

ইসলামিক গবেষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আরবি ‘শাহরুন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে মাস, আর ‘মুহাররম’ শব্দের অর্থ সম্মানিত। সুতরাং ‘শাহরুল মুহাররম’-এর যৌগিক অর্থ হলো ‘সম্মানিত মাস।’ আরবি ‘মুহাররম’ থেকেই ‘মহররম’ শব্দটি বাংলা সাহিত্যে ও বাংলাভাষী মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়।যাইহোক, মহররম হলো হিজরি সনের প্রথম মাস। যা আল্লাহ তায়ালার নিকট সম্মানিত চার মাসের এক মাস।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২, যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সুরা তাওবা : ৩৬)

চার মাসের একটি হলো মহররম। এ মাসের দশ তারিখকে বলা হয় ‘আশুরা।’ কারণ, আরবি ‘আশারা’ থেকে এর উৎকলণ। যার অর্থ হচ্ছে দশ। তাই এ মাসের দশ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলে অবহিত করা হয়। আদিকাল থেকেই আশুরার এই দিবসে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফ থেকে জানতে পাই।

হাদিসে এসেছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ ও যাবতীয় জীবের আত্মা সৃজন করেছেন, সে দিনটি ছিলো ১০ মুহাররম তথা পবিত্র আশুরার দিবস। আবার এ দিনেরই কোনো এক জুমাবারে হযরত ইস্রাফিল আ.-এর ফুঁৎকারে নেমে আসবে মহাপ্রলয়।

পবিত্র কুরআনের ভাষায় যাকে বলা হয় ক্কিয়ামত। এছাড়াও ইসলামের আরও অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে এ আশুরাতেই। আদি পিতা হযরত আদম আ.-কে সৃষ্টি করা হয় এই দিনে। এই দিনেই হযরত আদম আ. ও মা হাওয়াকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। আবার ভুলের কারণে তাদের পৃথিবীতে প্রেরণের পর এই দিনই তার তওবা কবুল করা হয়।

এমনিভাবে এ দিনে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আ. জন্মগ্রহণ করেন। এদিনেই নমরুদের বিশাল অগ্নিকু- হতে মুক্তিলাভ করেন। এই আশুরাতেই তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে হযরত মুসা আ. কথোপকথন ও আসমানি কিতাব ‘তাওরাত’ লাভ করেন। এই ১০ মহররমেই জালেম ফেরাউনের দলবলসহ নীল দরিয়ায় সলিল সমাধি হয়।

হযরত নুহ আ. ও তাঁর সাথীদের মহাপ্লাবন হতে মুক্তি লাভ, মাছের পেট হতে হযরত ইউনুস আ.-এর পরিত্রাণ, আসমান হতে বৃষ্টি বর্ষণের সূচনা এ সবকিছুই সংঘটিত হয়েছে ১০ মহররম অর্থাৎ আশুরার দিনে। সেকারণে এই ১০ মহররম যেন ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে এ দিনটির রয়েছে অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য। -ডেস্ক