(দিনাজপুর২৪.কম) নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ধর্মঘট এবং পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ চলছে।বুধবার সকাল থেকে শ্রমিকদের আন্দোলন-ধর্মঘটে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় সব যান চলাচল। অভ্যন্তরীণ ছোট কিছু যানবাহন ছাড়া তেমন কোনো গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না সড়কগুলোতে।এছাড়া ঢাকার সড়কেও রয়েছে গণপরিবহন সংকট।

সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাস, মিনিবাসসহ সকল গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।সকাল থেকে সকল গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে শত শত মানুষ।

নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় ধর্মঘট না মেনে সড়কে গাড়ি নামানোর কারণে কয়েক চালককে মারধর করে অন্যান্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে আন্দোলনকারী কয়েকজন কিশোর শ্রমিক। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও টাঙ্গাইল থেকে জামালপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল।

ঝিনাইদহের স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা।গত ১৮ নভেম্বর সকাল থেকে ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন তারা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে চলাচল করছে। ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না চাকরিজীবীরা।

পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌরুটের ফেরি ঘাট পন্টুনে যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছে ফেরিগুলো। ঘাট এলাকায় আসা মাত্রই ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে যানবাহন চালকরা। নতুন আইন কার্যকরের ঘোষণায় যানবাহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে দূরপাল্লার বাস কমে গেছে। এ কারণে ফেরিঘাট এলাকার এমন পরিস্থিতি বলে দাবি ঘাট কর্তৃপক্ষের।

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলার সব সড়কে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ নেমে আসে। আকস্মিক বাস বন্ধের ফলে দূরের যাত্রীরা পড়ে চরম বিপাকে। তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন। সড়কগুলো এখন দখল করেছে অবৈধ এসব যানবাহন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। আর বাস বন্ধ তাই বাড়তি ভাড়া আদায় করছে অবৈধ এসব যানের চালকরা। -ডেস্ক