(দিনাজপুর২৪.কম) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এক নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৯ জুলাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। ওই দিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী নারী, স্বজন ও তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬ জুলাই প্রচণ্ড জ্বর ও পেট ব্যথা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন ওই নারী। চিকিৎসক তাঁকে বুকের এক্স-রে করানোর পরামর্শ দেন। ওই দিন বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের আয়া প্রিয়বালার সঙ্গে তিনি রেডিওলজি বিভাগে এক্স-রে কক্ষে যান। এক্স-রে করানোর আগে আয়াকে বের করে দেওয়া হয়। ওই সময় কক্ষে একজন শিক্ষানবিশ হেলথ টেকনোলজিস্ট (স্বাস্থ্যযন্ত্রবিদ) দায়িত্ব পালন করছিল।
যৌন হয়রানির বিষয়টি তদন্তে রেডিওলজি বিভাগের প্রধান সুবাস মজুমদারকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক খোরশেদা শিরীন গতকাল সোমবার দিনাজপুর২৪.কমকে জানান, ওই নারীর সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত টেকনোলজিস্টকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম নূর হোসেন। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এই শিক্ষার্থী শিক্ষানবিশ টেকনোলজিস্ট হিসেবে হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে। ওই ঘটনার জন্য নূর হোসেনই দায়ী।
শিক্ষানবিশের সঙ্গে প্রশিক্ষক টেকনোলজিস্ট কেন এক্স-রে করার সময় ছিলেন না জানতে চাইলে খোরশেদা শিরীন বলেন, যে-ই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষানবিশ হেলথ টেকনোলজিস্ট নূর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মুঠোফোন নম্বরটি দুই দিন ধরে বন্ধ পাওয়া যায়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ফৌজদারহাট আইএইচটির শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিতে আসে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ শেষ হলেও নূর হোসেন ওয়ার্ডে কাজ করত। ওই দিন এক্স-রে কক্ষের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ মুনির নামে হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্ট। তদন্ত কমিটির কাছে মুনির দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি নামাজ পড়তে যান।
সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের আয়া প্রিয়বালা জানান, তিনি এক্স-রে কক্ষ থেকে বের হতে না চাইলেও ওই ছেলেটি (নূর হোসেন) তাঁকে বের করে দেয়। দুই দিন পরে ওই নারী তাঁর কাছে এবং নার্সদের কাছে জানতে চান, এখানে জামা খুলে এক্স-রে করা হয় কি না, তখন ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই দিন (৬ জুলাই) এক্স-রে কক্ষে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে (নূর হোসেন ছাড়া) ওই নারীর সামনে হাজির করে তদন্ত কমিটি। পরে প্রশিক্ষণার্থী নূর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে সে আর হাসপাতালে আসছে না।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও ফৌজদারহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সরফরাজ খান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে এ ঘটনার কথা জানায়নি। হাসপাতাল থেকে বিষয়টি জানানো হলে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ওই নারী গতকাল চিকিৎসা শেষে নগরের বউবাজার এলাকার বাসায় ফিরেছেন। তাঁর স্বামী দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা চাই আর কোনো রোগী যেন হাসপাতালে এসে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হন।’(ডেস্ক)