মনোরঞ্জন মহন্ত (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার আলোচিত  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামছুর রহমান ওরফে কাজলকে প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেল হাজতে পাঠিয়েছে লক্ষীপুর জেলা আদালতের বিচারক। আজ মঙ্গলবার লক্ষীপুর জেলা আদালতে স্ত্রী ফাহমিদা ইয়াসমিনের দায়ের করা  যৌতুক মমলায় জামিন নিতে গেলে লক্ষীপুর জেলা আমলী আদালত-২ এর জ্যেষ্ঠ বিচারক ইব্রাহীম মিয়া তাঁকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফাহমিদা ইয়াসমিন জানান, ২০১২ সালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যোগদান করার পর প্রথম স্ত্রীকে সেখানে নেননি শামছুর রহমান। গত দুই বছর থেকে তিনি স্ত্রী সন্তানের সাথে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। সর্বশেষ এবছরের জানুয়ারী মাসে ডাঃ শামছুর রহমান তাঁর প্রথম স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবী করেন। যৌতুকের টাকা না দিলে ফাহমিদার সাথে সংসার করবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এর মধ্যে ওসমানপুর এলাকার এক নারীর সাথে বিয়ের প্রলোভনে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন ডা. শামছুর রহমান।  পরে ওই নারী বিয়ের চাপ দিলে শামছুর রহমান ওই নারীকে জানান, কিছুদিন পরে সিভিল সার্জন হওয়ার পরে তিনি ওই নারীকে বিয়ে করবেন। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য চিকিৎসক ও এলাকাবাসীর কাছে ওই নারীর শামছুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথোপকথনের রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য প্রমাণ প্রকাশ পায়। এক পর্যায়ে ডা. শামছুর রহমান রংপুরে গিয়ে  গোপনে গত ৩১ মে ওই নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের ঠিক একদিন পরেই বিয়ে অস্বীকার করে ওই নারীসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ডাঃ শামছুর রহমান মামলা করেন। ঘটনায় ওই নারী শামছুর রহমানের বিচার দাবী করে গত ২ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ, স্বাস্থ্য সচিব, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ১০ জুন দিনাজপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাও করেন।  এরপর ডাঃ শামছুর রহমানের প্রথম স্ত্রী ফাহমিদা ইয়াসমিন বাদী হয়ে গত ১৪ জুলাই লক্ষীপুর আমলী আদালত-২ এ যৌতুক আইনে মামলা করেন। এ দিকে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নূর নেওয়াজ  জানিয়েছে, ডা. শামছুর রহমান গত ২৬ জুলাই থেকে ২ আগষ্ট পর্যস্ত ছুটি নেন। কিন্তু গত ৪ আগষ্ট পর্যন্ত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। ছুটিও নেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী  জানান, ডাঃ শামছুর রহমান প্রায় নির্ধারিত ছুটির চাইতে অতিরিক্ত সময় এবং ছুটি না নিয়েও প্রায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দিনাজপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এমদাদুল হক  জানান, ২ আগষ্টের পরে ডা. শামছুর রহমান কোন ছুটি নেননি। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে তাঁকে অবগত করেননি। এ বিসয়ে ডা. শামছুর রহমানে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।