(দিনাজপুর২৪.কম) চট্টগ্রামে ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় ধরা পড়েছে বিটিসিএলের কর্মকর্তাসহ ৩ ব্যক্তি। এ ঘটনা নিয়ে শহরজুড়ে তোলপাড় চলছে। গতকাল  দুপুরে বিটিসিএলের নগরীর নন্দনকানন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করে দুদক।
বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড-বিটিসিএল সূত্র জানায়, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিভাগীয় প্রকৌশলী ফোন্স (অভ্যন্তরীণ) প্রদীপ দাশের কক্ষের স্টিল কেবিনেটের ড্রয়ার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯০০ টাকা ও দুটি জমির দলিল উদ্ধার করা হয়। এই সময় ঘুষের ২০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুই কর্মকর্তা হলেন বিটিসিএলের প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন ও  টেলিফোন অপারেটর হুমায়ুন কবির।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী মানিকলাল দাস জানান, অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম ভুঁইয়ার কাছ থেকে ঘুষের ২০ হাজার টাকা নেয়ার সময় বিটিসিএলের প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন ও টেলিফোন অপারেটর হুমায়ুন কবিরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গিয়াস উদ্দিনের অফিস কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তার ও তার স্ত্রীর নামে করা ৮৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রদীপ দাশের অফিস কক্ষে তল্লাশি করে একটি স্টিল কেবিনেটের ড্রয়ারে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়।
ড্রয়ারটি থেকে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনা দুটি জমির দলিলও পাওয়া যায়। ওই জমি গিয়াস উদ্দিন ও হুমায়ুন কবিরের নামে কেনা হয়। পরে প্রদীপ দাশকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, সাত মাস আগে অবসরে যাওয়া উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম ভুঁইয়ার কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেন বিটিসিএলের দুই কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন ও হুমায়ুন কবির। ঘুষ দাবি করার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘুষ নেয়ার আগ থেকে আমরা সেখানে অবস্থান নিই। পরে ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় বিটিসিএলের দুই কর্মকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, সাত মাস হচ্ছে আমি অবসরে গিয়েছি। পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার জন্য বিটিসিএলের নন্দনকানন অফিস থেকে আমার ফাইলটি আগ্রাবাদ অফিসে পাঠাতে হবে। ফাইল পাঠানোর জন্য বেশ কয়েকবার নন্দনকানন অফিস যাই। কিন্তু তারা ফাইল পাঠানোর জন্য আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চায়। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয়ার পর তারা ঘুষের পরিমাণ কমিয়ে ২০ হাজার টাকা করে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তারা আমাকে হয়রানি করে। -ডেস্ক