(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে সময় পার করাই দায়। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার দ্বিতীয়বারের মতো ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে। এ লকডাউনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও ফুটপাতের দোকানিদের দোকান খোলার ক্ষেত্রে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। এ পরিস্থিতিতে রাস্তার পাশে জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসা তো দূরের কথা, শহরই ছেড়ে গেছেন হকারদের একটি বড় অংশ। আর যারা শহরে আছেন তাদের অবস্থা আরও শোচনীয় বলে জানালেন কয়েকজন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের এমন দুর্দশার চিত্র। নিউমার্কেট এলাকায় বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানিরা তাদের নির্দিষ্ট জায়গার সামনেই বসে সময় পার করতে দেখা গেছে। তবে দোকান খোলেননি।

আল-আমিন নামে একজন ফুটপাতের দোকানি বলেন, আমরা গত এক বছর ধরে অসহায় জীবনযাপন করছি। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। এবার রমজান ও ঈদ সামনে রেখে নতুন করে ধারদেনা করে পণ্য কিনেছি। কিন্তু এই লকডাউন আমাদের স্বপ্নভঙ্গ করেছে। জানিনা এই ধার কিভাবে শোধ করব। সংসারই বা কিভাবে চালাব। গুলিস্তান এলাকায় পোড়া মার্কেটের সামনে গুটিশুটি হয়ে বসে ছিলেন ফুটপাতের দোকানি ইয়াকুব আলী। তার ভাবনায় সংসার। কিভাবে চলবেন, ধারদেনা শোধ করবেন। তিনি বলেন, আশায় বুক বেঁধেছিলাম এই রমজানে ঘুরে দাঁড়াব। কিন্তু সে সুযোগ আর নেই। লকডাউনে অনেকেই গ্রামে চলে গেছে। এরা ঈদের আগে আর ফিরবে না। আর আমাদের ফুটপাতের ক্রেতাও এই শ্রেণির লোকজন।

বছরপাঁচেক আগে চাঁদপুর থেকে এসে ঢাকায় নবাবপুরে ফুটপাতে ব্যবসা শুরু করেন মকবুল হোসেন। পরে সঙ্গে নেন দুই ছেলে ও মেয়ের জামাইকে। ভালোই চলছিল। কিন্তু গত বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে তাদের জীবনে যেন আঁধার নেমে এসেছে। এতদিন ধারদেনা করে চললেও বর্তমানে আর পারছেন না। মকবুল হোসেন বলেন, চারজনের আলাদা দোকান ছিল। কিন্তু অর্থ সংকটে দোকান দুটি করেছি। ধারদেনা করে মাল তুলেছিলাম। এই লকডাইনে সব শেষ। লকডাউন বাড়লে গ্রামেই ফিরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এই রমজান মাসে পুরো রাতই ব্যবসা হয় আমাদের। শীতের সময় এক মাস আর রোজায় যা রোজগার হয় তাই মূলত সারাবছরের ব্যবসার আয়। বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প টাকা দিয়ে মালামাল সংগ্রহ করি। তবে ঈদের পর সব টাকা পরিশোধ করে নতুন করে ব্যবসার হিসাব শুরু হয়। কিন্তু পর পর দুই বছর ঈদের বাজার নষ্ট হওয়ায় ব্যবসা শেষ।

ফুটপাতের জুতা বিক্রেতা আরমান আলী জানান, সারাবছর যে পরিমাণ জুতা বিক্রি হয় তার কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হয় রোজার সময়। অন্য বছর এ সময়টায় দম ফেলার ফুরসত থাকে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে জুতা সংগ্রহ করে আমরা বিক্রি করি। অনেক বকেয়া পরিশোধ করি রোজার মাসের বিক্রির আয় দিয়ে। গত বছর ব্যবসা হয়নি। এবারও একই দশা। বাংলাদেশ হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ বলেন, হকাররা সাধারণত সবসময় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকেন। কিন্তু রমজান মাসে এই আতঙ্ক থাকে না। করপোরেশন সদয় থাকে। গত বছর ঈদে ব্যবসা করা যায়নি। এ বছরও একই অবস্থা। শত শত হকারের পরিবারে খাবার নেই। এর পরও ধারদেনা করে অনেকেই দোকানে মাল তুলছেন রমজানকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এভাবে লকডাউন চললে সবাইকে গ্রামে ফিরে যেতে হবে। -ডেস্ক রিপোর্ট