ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ঘটনাবহুল হরতাল। মিছিল, সড়ক অবরোধ, গাড়িতে আগুন, সংঘর্ষ, গুলি। কোথাও শান্তিপূর্ণ, কোথাও উত্তাপ। রাজধানী ঢাকার ভেতরের পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি শান্ত। রাস্তায় যানবাহনের পরিমান ছিল কম। বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন হরতাল সমর্থকরা। লালবাগে হেফাজত কর্মীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। মোহাম্মদপুরের বসিলায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন হেফাজত কর্মীরা।

এ এলাকায় হরতাল বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। এসময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কিছুটা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। দুপুরের দিকে এ এলাকায় বড় মিছিল করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন।
দিনভর সংঘাত আর উত্তেজনা ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, সানারপাড় এলাকায়। রাজধানীর প্রবেশপথে সকালেই অবস্থান নেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশ-বিজিবির সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন হেফাজত নেতাকর্মীরা। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। সারা দিনই এ সড়ক ছিল হেফাজত সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে ও আগুন দেয়। এসময় ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামগামী কোন দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে পারেনি। ওদিকে গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকেও কোনো বাস ছাড়েনি। দোকানপাট-মার্কেট ও বিপনিবিতান খোলা ছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘাতের কারণে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। হরতালকে ঘিরে কঠোর অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সদস্যরা। এপিসি জলকামান নিয়ে বিভিন্ন সড়কে টহল দেন তারা। এদিকে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে ছিলেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন।
এদিকে  আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় পালিত হয়েছে হেফাজতে ইসলামের হরতাল কমসূচি। সবচেয়ে উত্তাপ ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।  ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে নগরজুড়ে। হামলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে থাকা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।  গাড়ি ভাঙচুর করা হয় মৎস্য অফিসের। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সদরের ভূমি অফিস। হামলা হয়েছে প্রেস ক্লাবে। আহত হয়েছেন প্রেস ক্লাব সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি। সকালে শহরের পীরবাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। একই সময়ে শহরের পৈরতলায় পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের সাথে সংঘর্ষ হয় হেফাজত সমর্থকদের। পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে খাল কেটে অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররাসিলেট নগরীতে সকাল থেকেই হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অবস্থান নেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এতে শহরের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শহরে সরকার সমর্থকদের সঙ্গে হেফাজত কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সুনামগঞ্জে শহরের সড়কে অবস্থান নেন হেফাজতের কর্মীরা। ফেনী-নোয়াখালী সড়ক অবরোধ করেন হেফাজত সমর্থকরা।  ওদিকে রাজশাহী মহানগরীর ট্রাক টার্মিনালে রাখা বিআরটিসির দুটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। -ডেস্ক