মোঃ কায়ছার আলী

মোঃ কায়ছার আলী (দিনাজপুর২৪.কম)  সকল পাখী পশু বা প্রাণী এবং উদ্ভিদ উপকারী নয় ,আবার ক্ষতিকরও নয়। ঠিক তেমনি সব জীবাণুই মানব দেহের জন্য অনুপযোগী নয় বরং এর থেকে আবিষ্কার হয়েছে জীবন রক্ষাকারী পেনিসিলিনের মত বিস্ময়কর ওষুধ। তবে এসবই সম্ভব হয়েছে অনুজীব বিজ্ঞানীদের কারণে। সম্প্রতি চীনের শেনবেন শহরে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে।আজ শতকোটি মানুষের একটাই প্রার্থনা একটি সফল প্রতিষেধক যা দিয়ে করোনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রাতদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর সম্মিলিত ভাবে সারা বিশ্ববাসী আজ সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি। কেননা একটা কার্যকর ভ্যাকসিন সবার চাই। এ পরীক্ষার তালিকায় আমাদের দেশের নাম উঠে এসেছে। আমরা অতি আবেগ প্রবণ জাতি। কারো প্রশংসা করলে তাঁকে ফেরেশতা বা দেবতা বানিয়ে ফেলি। আর যদি কাউকে অপছন্দ করি তাহলে তাঁকেই শুধু নয়,তাঁর চৌদ্দ পুরুষকে বেঈমান, মীরজাফর বা শয়তান বানিয়ে ক্ষান্ত হই। এটা মজ্জাগত স্বভাব। কোথায় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা বা ক্রিকেট তাদের বড় বড় পতাকা তৈরি করে বাড়ীতে উড়ানোর পাশাপাশি একে অপরের সাথে বাকযুদ্ধে লিপ্ত, শোভাযাত্রা, শোডাউন করি। নিজেদের চেয়ে অন্যদের প্রশংসা বেশি না করলে খাবার হজম হতে একটু দেরি হয়। চীন, ইংল্যান্ড, আমেরিকা বা অন্য কোন দেশ ভ্যাকসিন আবিস্কারের খবর পেলে আমরা তাঁদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নিবন্ধ প্রবন্ধ, কবিতা বা গানের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করতাম না। কিন্তু আজ উচ্চ শিক্ষিত ড: আসিফ মাহমুদ এর টীকা আবিস্কারের খবরের পর কে কতটুকু তাঁকে অভিনন্দিত করেছি। তা দেশবাসীর মত গণমাধ্যমও জ্বলন্ত স্বাক্ষী। দেশপ্রেমিক তিনি এদেশ বা দেশের মানুষকে কতটা ভালবাসেন সেদিনের (২রা জুলাই ২০২০) তাঁর চোখের আনন্দ ভেজা অশ্রু মিশ্রিত উপস্থাপন ছিল অনেক অনেক তাৎপর্যময়। তিনি ইচ্ছে করলে সারাজীবন দেশের বাইরে আরাম আয়েশ করে কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা ভাবেননি। টিকা আবিষ্কারে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। এ প্রকল্পে তাঁরা আছেন মোট ০৬ জন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন “৮ মার্চ কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কীট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণা কর্মকান্ড শুরু করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সহযোগীতা একান্ত ভাবে কামনা করছি। প্রাণীর পর মানব দেহে সফল ভাবে টিকাটি কাজ করবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি”। আসলে গবেষণা মূলক কাজে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ থাকে। সেখানে ব্যর্থতার পাশাপাশি সফলতাও জড়িত। মহামারীর ভ্যাকসিন তৈরিতে আন্তর্জাতিক রেগুলেটারি গাইড লাইন অনুসরণ করার পর অনেক গুলো ধাপ পেরিয়ে সবোর্চ্চ ধাপে পৌঁছতে হয়। আবার সবার আস্তা ও বিশ্বাস অর্জন তো আছেই। ১৪০ টি দেশ ভ্যাকসিন আবিস্কারের জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে অন্তত ১৩টি ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। যদি বাংলাদেশ করোনা ভ্যাকসিন বানিয়ে দেখাতে পারে তাহলে সারা বিশ্ববাসী এক অনন্য উচ্চতায় এদেশকে দেখতে পাবে। আমাদের দেশেও রয়েছে নোবেলজয়ী ড: মুহাম্মদ ইউনুস, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং সংবিধান প্রণেতা ড কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কীট প্রস্তুতকারী, ড: বিজন শীল, প্রতিভাধর প্রোকৌশলী, প্রয়াত ড: জামিলুর রেজা চৌধুরী, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাক্তিত্ব স্যার ফজলে হাসান আবেদ, স্থাপত্যের আইনস্টাইন এফ আর খান আর স্টিফেন হকিং এর সহযোগী বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিদ জামাল নজরুল ইসলামের মত প্রমুখ আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্ব। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান রয়েছে ডা: রফিকুল ইসলাম (খাবার স্যালাইন আবিস্কারক), শুভ্র রায় (কৃত্রিম কিডনি তৈরিতে অসামান্য কীর্তি) সাস্ট এর শিক্ষক আলী আবু ইবনে সিনা (দ্রুত ক্যান্সার নির্ণয় কারী) ডা: মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী ( ফুসফুস নিউমোনিয়ার চিকিৎসা সহজ পদ্ধতি)। আজ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন ও ব্যবহারে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাবনার পিছনে যাঁরা দেশে বিদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাঁদের সকলকে জানাই শুভেচ্ছা। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড এবং ড: আসিফ মাহমুদ স্যার হউক একজন সুপার হিরো। এগিয়ে যাক আমাদের দেশ। পৎ পৎ করে সারা বিশ্বে উড়ুক আমাদের রক্তে ভেজা, অনন্য বিসর্জনে পাওয়া লাল সবুজ প্রাণপ্রিয় পতাকা।

//////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

লেখক-মোঃ কায়ছার আলী,  শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, ইমেইল : kaisardinajpur@yahoo.com