(দিনাজপুর২৪.কম) শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের গ্রেফতার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে পলাতক এই সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়েছে বলে খবর রটেছে। দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমেও এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে জিসানের গ্রেফতার নিয়ে দু’ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) গ্রেফতারের খবরটিকে সত্য বলে জানিয়েছে। এআইজি মহিউল ইসলাম শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জিসান দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছে বলে দুবাই এনসিবি থেকে তাদের জানানো হয়েছে। জিসান এখন আইনের হেফাজতে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

কবে গ্রেফতার হয়েছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটি আমাদের জানা নেই। গত মাসের ২৫ তারিখে দুবাই থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাই। ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

দুবাইয়ে জিসানের ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, জিসান আদৌ গ্রেফতার হননি। তিনি আগেই নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি এখন বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, জিসানের একটি ভারতীয় পাসপোর্ট ছিলো। সেখানে তার নাম বলা হয়েছে আলী আকবর চৌধুরী।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন জিসান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, মৌচাক, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, মতিঝিলসহ বেশ কিছু অঞ্চলে তার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতো সে। ইন্টারপোল তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জিসান সম্পর্কে বলা আছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ আছে।

২০০৩ সালে মালিবাগের একটি হোটেলে দুজন ডিবি পুলিশকে হত্যার পর আলোচনায় আসে জিসান। এরপরেই সে গা ঢাকা দেয়। ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশ ছাড়ে।

সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দুই যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের পর তার (জিসানের) নাম ফের নতুন করে আলোচনায় আসে। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। -ডেস্ক