(দিনাজপুর২৪.কম) স্বামী ও সতিনের অত্যাচার ও অপমান সইতে না পেরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সাথী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের আলম চৌধুরীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

সাথী আক্তার গোয়ালন্দ পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের আলম চৌধুরীপাড়ার দরিদ্র পান বিক্রেতা আ. সালাম প্রামাণিকের মেয়ে। তিনি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।এ ঘটনায় সাথীর বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার গোয়ালন্দঘাট থানায় সাথীর স্বামী রাসেল চৌধুরী (৩০) ও দ্বিতীয় স্ত্রী সেতু আক্তারের (৩৫) বিরুদ্ধে সাথীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে এজাহার দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে রাসেল ও সেতু পলাতক রয়েছে।

সাথীর পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভার জুড়ান মোল্লাপাড়ার মঞ্জু চৌধুরীর ছেলে রাসেলের সঙ্গে সাথীর বিয়ে হয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে রাসেল সাথীকে নিয়ে ঢাকায় থাকত। কিন্তু গোয়ালন্দে এক কলেজশিক্ষকের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী সেতুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছাড়তে পারেনি রাসেল। মাস ছয়েক আগে সেতু ও রাসেলকে ওই কলেজশিক্ষক তার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেললে সেতুকে তার স্বামী তৎক্ষনাৎ তালাক দেন।

পরে রাসেল সেতুকে বিয়ে করে ঢাকার বাসায় নিয়ে উঠায়। সেখানে রাসেল ও সেতু মিলে সাথীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসতে বাধ্য করে। তারপরও সাথী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী সদর থানার খানখানাপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকায় রাসেলের বোনের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান ছিল। রাসেলের কথামতো সাথী সেখানে একাই রিকশাযোগে যায়। কিন্তু আগে থেকেই রাসেল সেখানে সেতুকে নিয়ে উপস্থিত হয়।

অনুষ্ঠানে রাসেল সেতুকে স্ত্রী হিসেবে সকলের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি এক সঙ্গে খানাপিনা ও অনুষ্ঠান উপভোগ করে। সাথী ছিল একেবারেই একাকী, উপেক্ষিত ও অপমানিত।

এ নিয়ে সাথী অনুষ্ঠানের ফাঁকে রাসেল ও সেতুর সঙ্গে কথাকাটাকাটি করে। তারা দুজনই সাথীকে চরম অপমান করে তাকে জানিয়ে দেয় তাদের মাঝে সাথীর আর কোনো জায়গা নেই। এরপর সাথী কিছু না খেয়েই পুনরায় বাবার বাড়িতে এসে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেয়।

সাথীর মা অসুস্থতার কারণে সে সময় রাজবাড়ীতে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ায় সে সময় বাড়ি খালি ছিল। তবে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে দরজা ভেঙে সাথীকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামায়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী জানান, খবর পেয়ে রাতেই সাথীর লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ীর মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সাথীর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে রাসেল ও সেতুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তারা পালিয়েছে।-ডেস্ক