(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) আজকে ধর্ষণ শব্দটা শুধু নারী-শিশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, গোটা বাংলাদেশটাই ধর্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মন্ত্রিসভায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার আইন সংশোধন নীতিগত অনুমোদনের পর আজ দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।

গয়েশ্বর বলেন,  ‘আজকে ধর্ষণের শব্দটা শুধু নারী-শিশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গোটা বাংলাদেশটাই তো ধর্ষিত। আমার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যদি না থাকে সেটা ধর্ষিত রাষ্ট্র বলা যায় না, আমাদের জননী-জন্মভূমি স্বর্গের চেয়ে পবিত্র। সেই পবিত্র জায়গায় যদি হাত পড়ে অপবিত্র হয়, তাহলে ধর্ষিত রাষ্ট্র বলা যায় না। আজকে গোটা স্বাধীনতা-সারভৌমত্ব, গণতন্ত্র ধর্ষিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে আপনি দেখছেন, নারী শিশুদের নির্যাতনের মহোৎসব, অন্যদিকে দেখছেন লুটপাট মহোৎসব, দখলবাজীর মহোৎসব, বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার মহোৎসব। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

আইন কাগজের মধ্যে থাকলে চলবে না জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন,  ‘এই যে জঘন্য অপরাধ ধর্ষণে অপরাধের শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড হয় তাহলে কি কালকে থেকে এই অপকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে? বন্ধ হবে না। আইন কাগজের মধ্যে থাকলে চলবে না, আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। প্রশাসনকে জনগনের পক্ষে আইনের দৃষ্টিতে জনগণকে সুরক্ষা দিতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে। অর্থাৎ বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই কিন্তু আজকে একের পর এক অপরাধ বাড়ছে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়  আরও বলেন, ‘ক্রিমিনাল কোডে লেখা আছে-কতটুকু অপরাধের জন্য কতটুকু শাস্তি। আইনের শাসন থাকলে কিন্তু আমরা সেই ক্রিমিনাল কোড প্রয়োগ করতে পারি। আইনের শাসন না বলেই প্রশাসনের জবাবদিহিতা নাই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নাই।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস মহানগরের উদ্যোগে দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষন ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এই আলোচনা সভা হয়। জাসাস মহানগরের আহ্বায়ক মীর সানাউল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাসাসের সভাপতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাসাসের আহসান উল্লাহ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, শরীফ মাহমুদুল হক, আরিফুর রহমান মোল্লা, জাকির হোসেন রোকন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। -ডেস্ক রিপোর্ট