(দিনাজপুর২৪.কম) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির ভাঙা রেকর্ড বাজতেই থাকে। তারা বলে- গেল রে গেল, গণতন্ত্র গেল; গেল রে গেল, নির্বাচন গেল। আগে তারা বলতো- বাংলাদেশ ইন্ডিয়া হয়ে গেল। সেই পুরনো স্লোগান এখন তারা আবার বাজাচ্ছে।’

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য সাতক্ষীরায় যাওয়ার পথে যশোরের রাজারহাটে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, যশোর-২ আসনের এমপি মনিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলদার প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতার রাজনীতির দাবা খেলায় বিএনপি হেরে গিয়ে এখন নালিশের ভাঙা রেকর্ড অবিরাম বাজিয়ে চলছে। কোনো নির্বাচন এলেই বিএনপি শুধু অভিযোগ আর নালিশের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা বিএনপিই গৌণ ও অকার্যকর করে ফেলছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপি সব সময় অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এখন তারা নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে বিএনপি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির আগামী নির্বাচনে না আসার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনে তাদের আসতেই হবে। যদি তারা রাজনৈতিক অস্তিত্বকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না চায়, তাহলে নির্বাচনে আসবে। তারা এটাকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারবে না। কারণ, নির্বাচনে না এলে তারা আরো সঙ্কুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। বিএনপি যদি না আসে, তাহলে সেই সুযোগ তারা হাত ছাড়া করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির দুর্নীতির কেচ্ছা-কাহিনীর থলের বিড়াল মিউ করে বেরিয়ে আসছে। কাতার-সৌদি আরবে তাদের দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়েছে। কানাডার আদালত তো রায় দিয়েছেন তারা ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’। তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতির রায়ও হয়েছে। বাংলাদেশের আদালতেও অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের সাজা হয়েছে। এগুলোকে বিএনপি কী অস্বীকার করতে পারবে? কানাডা-সিঙ্গাপুরের আদালতের রায়কে কী তারা অস্বীকার করতে পারবে?’

প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু দুর্নীতি না, বিএনপির এক নেতাকে কানাডা আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। তারা বলেছে- বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না। কানাডা কী আমাদের সরকারের আদালত? নাকি সরকারি হস্তক্ষেপে এই রায় দিয়েছে দেশটি?’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে- ঢাকা শহরের কিলার গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপির সুইডেন প্রবাসী এক নেতা। দুই বছর আগে সুইডেনে পাঠিয়ে দেয়া ওই নেতা ঢাকা শহরের কিলার নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে খুন-গুমের সঙ্গে বিএনপি নেতার ওই কিলিং গ্রুপ জড়িত কিনা আমাদের ঘোরাতর সন্দেহ হচ্ছে।’

কাদের বলেন, আমরা বারবার বলেছি, নির্বাচনে বিএনপি আসুক, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন আমরা করতে চাইনি। কিন্তু বিএনপি আমাদের একটা পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। আসবো আসবো করে বিএনপি ৫জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু আইনগতভাবে নির্বাচন কারো জন্যে থেমে থাকে না। নির্বাচনের ট্রেন চলবেই। গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হওয়ার সুযোগ নেই। আর বিএনপি না আসলে নির্বাচন তো বন্ধ থাকতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে গণতন্ত্রের কী দোষ! -ডেস্ক