(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য স্বাধীন বাংলাদেশে একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। কোনো মানুষ কুঁড়েঘরে থাকবে না। যাদের ঘর নাই আমরা তাদের ঘর করে দেব বিনা পয়সায়। যাদের জমি নেই তাদের আমরা খাস জমি দিয়ে দেব। যাদের জমি আছে ঘর করার টাকা নাই, তাদের টাকা দিব ঘর তৈরি করার।’

বুধবার (২১মার্চ) চট্টগ্রামের পটিয়ায় আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই জনসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

প্র্রধানমন্ত্রী বলেন,‘জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। বিশ্বসভায় আমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারি। বাংলাদেশকে কেউ আর অবহেলা করতে পারবে না।’ ‘সারা বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবস্থান করে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। সকলের হাতে মোবাইল ফোন। থ্রি জি চালু করেছিলাম। ফোর জি চালু করে দিয়েছি। আজ সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস। ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। ৮ হাজার ৫০০ পোস্ট অফিস ডিজিটাল সেন্টার হচ্ছে। আপনাদের স্বজনরা বিদেশে থাকে। আগে বছরের পর বছর দেখা হতো না। কবে একখানা চিঠি আসবে বসে থাকতে হতো। আজকে মোবাইল ফোন হাতের মুঠোয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলতে পারেন, চেহারা দেখতে পারেন। ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে আপনারা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রবাসী স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, দেখতে পারেন, সে সুযোগটা আমরা করে দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হলে এটা আরো সহজ হয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম নিজের অর্থে আমরা পদ্মাসেতু করব। যে কথা বলেছিলাম সে কথা রেখেছি। নিজের অর্থে আমরা করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য যে ৩০ শতাংশ কোটা আছে, তা বহাল থাকবে। ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এই কথাটা ভুললে চলবে না। কাজেই তাদেরকে আমাদের সম্মান দিতেই হবে। তাদের ছেলে, মেয়ে নাতি পুতি পর্যন্ত যাতে চাকরি পায়, সেটার জন্য কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’ কোটায় যদি না পাওয়া যায়, তাহলে শূন্য পদে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিতে কোটার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর বাইরে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর জন্য ১০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা রয়েছে।
৯০ দশক থেকে প্রতিটি রাজনৈতিক সরকারের শেষ বছরে এই কোটা নিয়ে একটি পক্ষ মাঠে নামে। তারা মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।