(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীর বনশ্রীতে নিহত গৃহকর্মী লাইলীর গলায় ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ভিসেরা পরীক্ষার পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

সোহেল মাহমুদ বলেন, নিহতের শরীর থেকে ভিসেরা, গলা থেকে টিস্যু (নেক টিস্যু), ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।

এদিকে গৃহকর্মী নিহতের ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নিহত লাইলীর (২৫) স্বামীর ভাই বাদী হয়ে গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন, তার স্ত্রী ও বাড়ির কেয়ারটেকার কামালসহ ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাত রেখে এ মামলা করেন। শনিবার পুলিশ গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও বাড়ির কেয়ারটেকার কামালকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন।

শনিবার ভোরে বনশ্রী বি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের নিজ বাড়ি থেকে গৃহকর্ত্রী শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও বাড়ির কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে খিলগাঁও থানার এসআই মনজুর রহমান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। মামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

বনশ্রীর ‘জি’ ব্লকের চার নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়ির মালিক সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও বর্তমানে নাসির গ্রুপের উপদেষ্টা মঈন উদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় লাইলীকে হত্যার অভিযোগ এনে স্থানীয় তিনটি বস্তির বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা গৃহকর্তা মঈন উদ্দিনের বাসায় হামলা ও ভাংচুর করে। তারা একটি গাড়িতে আগুন ও আরেকটি পিকআপ ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে এক পর্যায়ে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি সাইফুল ইসলাম, খিলগাঁও থানার ওসি মাইনুল ইসলামসহ অর্ধশত আহত হন।

বাড়ির গৃহকর্তা মইনুদ্দিন জানান, লাইলী তার ফ্ল্যাটে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে কাজ করতে আসেন। ফ্ল্যাটে ঢুকেই একটি কক্ষের ভেতর গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় ডাকাডাকি করলেও লাইলী দরজা খুলছিলেন না। তখন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক টিপুকে জানানো হয়। পরে দরজার ছিটকিনি ভেঙে কক্ষটির ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাইলীকে পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

জানা গেছে, লাইলীর স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তিনি বনশ্রীর পাশে সোহাগ কোম্পানি সংলগ্ন হিন্দুপাড়া বস্তিতে এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আজুয়াটালী গ্রামে তার বাড়ি। -ডেস্ক