(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীর বনশ্রীর এক বাসায় গৃহকর্মীর রহস্যজনক নিহতের ঘটনায় সংঘর্ষ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গৃহকর্মীর মৃত্যুকে ‘হত্যা’ দাবি করে ওই বাসায় হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে।

এছাড়া দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে তারা রাস্তা অবরোধ ও যানবাহনেও ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

জানা যায়, আজ সকালে ‘ডি’ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসার নীচ তলায় লাইলী নামে এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এরপর দুপুর ২টার দিকে ওই বাসা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। তার কিছুক্ষণ পর ওই বাসাটিতে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে হামলা করে এলাকাবাসী।

বাড়ির গৃহকর্তা মইনুদ্দিন জানান, লাইলী তার ফ্ল্যাটে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে কাজ করতে আসেন। ফ্ল্যাটে ঢুকেই একটি কক্ষের ভেতর গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় ডাকাডাকি করলেও লাইলী দরজা খুলছিলেন না। তখন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক টিপুকে জানানো হয়। পরে দরজার ছিটকিনি ভেঙে কক্ষটির ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাইলীকে পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

জানা গেছে, লাইলীর স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তিনি বনশ্রীর পাশে সোহাগ কোম্পানি সংলগ্ন হিন্দুপাড়া বস্তিতে এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আজুয়াটালী গ্রামে তার বাড়ি।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, লাইলীর গলায় কালো দাগ ছিল। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বাধা দেয়। পুলিশ ওই বাড়ির সামনে থেকে জনতাকে সরানোর চেষ্টা করলেও দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেলও ছোড়ে।-ডেস্ক