(দিনাজপুর২৪.কম) বিশ বছরের পুরনো কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় দুই দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন বলিউড তারকা সালমান খান। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান সালমান। শনিবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টা দিকে ‘ভাইজান’র জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজস্থান রাজ্যের যোধপুরের বিচারিক আদালতে সালমানের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানির পর আদালত প্রথমে দুপুর আড়াইটায় আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার কথা বলেন। পরে তা আরও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সাড়ে ৩টায় নির্ধারণ করা হয়।

সেসময় আদেশ প্রদানকালে আদালতে সালমানের আইনজীবীসহ উপস্থিত ছিলেন তার দুই বোন আলভিরা ও অর্পিতা খান শর্মা। তাদের আদালতে নিয়ে আসেন সালমানের দেহরক্ষী শেরা। জামিন পাওয়ায় সালমান শনিবারই বাড়ি ফিরবেন কি-না, তা স্পষ্ট নয়। তবে তার স্বজনরা সেই আশাই করছেন।

সালমানের জামিন আবেদনের শুনানি প্রথমে কিছুটা দোলাচলে পড়ে যায় বিচারিক আদালতের জজ রবীন্দ্র কুমার জোশীকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলে। বদলির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাত দিন সময় লাগে বিধায় শেষতক জোশীর এজলাসেই হয় শুনানি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার রায়ে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়। এই মামলায় অন্য তিন অভিযুক্ত সাইফ আলী খান, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রেকে আদালত বেকসুর খালাস দেন আদালত। রায়ের পর সালমানকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়।

২০ বছর আগে ১৯৯৮ সালের ১ ও ২ অক্টোবর যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের মাঝে আলাদা আলাদা জায়গায় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ গুলি করে হত্যা করেন সালমান খান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান, নীলম, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রে। রাজস্থানের যোধপুরের কঙ্কানি এলাকায় গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিবাসীদের অভিযোগ, গুলির শব্দ শুনে তারা সালমানের জিপসি গাড়িটি ধাওয়া করে। কিন্তু তাদের ধরা যায়নি। ওই সময় চালকের আসনে ছিলেন সালমান খান। গ্রামবাসীর দাবি প্রবল গতিতে গাড়ি চালিয়ে সালমান খান ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে আরো জানা গেছে, যোধপুরের আদালতে সালমান খানকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায় হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে সালমান খানের আইনজীবী এইচএম সারস্বত দাবি করেন, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন। এমনকি বন্দুকের গুলিতেই যে কৃষ্ণসার দুটির মৃত্যু হয়েছিল, তা-ও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি। গত ২৮ মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়। -ডেস্ক