(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দেশে শুরু হয়ে গেছে গণহারে করোনার টিকা দেয়ার মহাযজ্ঞ। গণটিকার দেয়ার প্রথম দিনই কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার এই প্রতিষেধক নিয়েছেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। দেশের মাটিতে টিকা এসে পৌঁছানোর আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ‘নিবন্ধন অ্যাপ’ তৈরির কথা জানানো হয়েছিলো । কিন্তু গণটিকা প্রয়োগের যাত্রা শুরু হয়ে গেলেও দেখা নেই নিবন্ধন অ্যাপের।

রোববার সকালেও গুগল প্লে স্টোরে সার্চ দিয়ে পাওয়া যায়নি কোভিড-১৯ টিকা নিতে নিবন্ধন করার অ্যাপ ‘সুরক্ষা’। তবে সুরক্ষা নামে একটি অ্যাপ মিললেও দেখা যায় সেটি একটি অনলাইন ইনস্যুরেন্স কোম্পানির।

অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য ভরসা এখন কেবল ওয়েব পেজ www.surokkha.gov.bd। সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানানো হলেও বাস্তবতা হলো, ওয়েব পেজে নিবন্ধন আবেদনের ঘরে যাওয়ার পর দেখা যাবে, এখানে সুযোগ রাখা হয়েছে কেবল ১৯ ধরনের ব্যক্তির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিবন্ধন করার।

এদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকাল থেকে শুরু হয়েছে করোনার টিকাদান কার্যক্রম। রোববার এখানে ২০০ জনের টিকা দেয়ার কথা। তবে হাসপাতালের নিবন্ধন বুথে নিবন্ধন করতে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। টিকা নেয়ার পর বিশ্রাম নেয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা নিচ্ছেন না।

দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স-১ কক্ষে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম টিকাটি নেন কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম মাকসুদ কামাল। এরপর টিকা নেন হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান।

এ হাসপাতালে টিকা নেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তবে তিনি টিকা নেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শনিবার জানিয়েছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নেয়ার কথা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে বক্তব্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলে যান। এ সময় এ বি এম মাকসুদ কামাল ও খলিলুর রহমানের টিকা নেয়া শেষ হয়। টিকা নেয়ার পর এ দুজনের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম করার কথা থাকলেও তারা বিশ্রাম না নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কনফারেন্স কক্ষ ত্যাগ করেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। আজ মূলত টিকা নিয়েছেন হাসপাতালটির চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৯১ জন করোনার টিকা নেয়ার জন্য এ হাসপাতাল থেকে নিবন্ধন করেছেন।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা দেয়ার জন্য মোট চারটি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে নারীদের জন্য দুটি বুথ। রোববার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বুথে ঢুকতেই হাতের ডান দিকে একটি নিবন্ধন বুথ। সেখানে একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা আছে।

নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালটির ব্রাদার মো. শফিউল। তিনি বলেন, নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার প্রশিক্ষণ নেই। তিনি চেষ্টা করছেন। কয়েকজনের নিবন্ধন করতে পেরেছেন। দু’একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর নিচ্ছে না।

দুপুর ১২টার দিকে ৭২ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধা। তিনি এসে বুথের দায়িত্বরত শফিউলকে তার এনআইডি দেন। কয়েকবার চেষ্টার পর তা ব্যর্থ হয়। আবুল কালাম বলেন, ‘বাসায় নিবন্ধনের কাজ করেছি, ওটিপি এসেছে। তবে মেসেজ আসেনি। এখন হাসপাতালে নিবন্ধন করতে এলাম। বলছে, এনআইডি নিচ্ছে না। অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও হলো না। এই স্মার্টকার্ডেই তো সব কাজ করি। সব জায়গায় হয়, এখানে হলো না।’

দুপুরে করোনা টিকা নিবন্ধনের জন্য আসেন হাসপাতালটির পাঁচজন নার্স। এসে তারা নিজেরাই কম্পিউটারের সামনে বসে পড়েন। নিজে নিজে নিবন্ধন করার কাজ শুরু করেন।

অন্তত পাঁচজন নার্স জানালেন, তাদেরও নিবন্ধন করতে জটিলতা হচ্ছে। নতুন স্মার্টকার্ডে থাকা নম্বর নিবন্ধন করার সময় কাজে আসছে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা পুরোনো ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করা যাচ্ছে।

এর আগে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ যেমন ভালো করেছে, তেমনি কোভিড নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিরাট সফলতা পেয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী করছেন। সোহরাওয়ার্দীতে টিকাদান শুরু করতে আজকের আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ এ বি এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত ১০টি বুথে করোনা টিকা দেয়ার ব্যবস্থা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে হাসপাতালের পরিচালকের এ বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কেবল চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। বেলা দুইটার আগেই নারী বুথ তালা মেরে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর নারীদের টিকা দেয়া হয় পুরুষ বুথের ভেতরে থাকা দুটি কাপড়ঘেরা আচ্ছাদিত বুথে। বেলা তিনটার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ হাসপাতালে সস্ত্রীক টিকা নেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল