(দিনাজপুর২৪.কম) যশোরের অভয়নগরে গর্ভপাত করাতে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগের সাবেক নেতা শেখ সাইফার রহমানসহ ৫জনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ওই নারী নিজেই। সংবাদ সম্মেলনে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর সঙ্গে তার মা ও কয়েকজন তরুণ উপস্থিত ছিলেন। ওই তরুণরা তার প্রতিবেশী বলে জানান।

তিনি দাবি করেন, বিচার চাওয়ায় তাকে ও তার মাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্তরা। আতঙ্কে মাসহ তিনি ঢাকায় পালিয়ে এসেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী বলেন, তাদের বাড়ি অভয়নগরের নওয়াপাড়ায়। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তার মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। মাঝে কয়েক বছর পড়ালেখা বন্ধ থাকার পর চলতি বছর তিনি এসএসসি পাস করেছেন।

গৃহবধূর দাবি, নওয়াপাড়ার জনি সরদারের সঙ্গে ২০১৩ সালে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। নওয়াপাড়ায় একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে জনিদের। নাম ‘হোটেল আল সেলিম।’ ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে ওই হোটেলে নিয়ে এক মৌলভীর মাধ্যমে কলেমা পড়িয়ে ও কাগজে সই করিয়ে জনি বলে, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকা শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে এবং ওই হোটেলে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি তিনি অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন। এ খবর জুনের শেষ দিকে তিনি জনিকে জানান। ওই সময় জনি তার সঙ্গে বিয়ে অস্বীকার করে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেয়।

ওই গৃহবধূর অভিযোগ, গত ৭ জুলাই অভয়নগর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফার রহমান বিষয়টি মিটমাট করার জন্য তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান জনির হোটেলে। দোতলার একটি কক্ষে গিয়ে তিনি দেখেন জনি, তার বন্ধু আজিম, সুমন ও রুবেল অবস্থান করছে। গর্ভপাত করানোর জন্য তারা তাকে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সে যেতে না চাইলে জনিসহ পাঁচজনই তাকে ধর্ষণ করে। তরুণী সেখান থেকে বের হয়ে মামলা করতে অভয়নগর থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে তার অভিযোগ। এরপর ২৫ জুলাই আদালতে গিয়ে সাইফার, জনি, সুমন, রুবেল ও আজিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।

তিনি বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী। তারা তার বাসায় গিয়ে হামলা চালিয়েছে, ভাংচুর করেছে। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যশোরে আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। কয়েকদিন আগে ঢাকায় এসে উঠেছেন এক স্বজনের বাসায়। জীবনের ভয়ে মাসহ তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভয়নগর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফার রহমান। তিনি বলেন, তরুণীকে তিনি হোটেলে ডেকে নিয়ে যাননি এবং ধর্ষণও করেননি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা, ষড়যন্ত্র। জনি তার ছেলের বয়সী। জনির সঙ্গে তার যোগাযোগ কখনই ছিল না। এলাকার ছেলে হিসেবে তাকে চেনেন তিনি।

মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মতিন বলেন, “শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।” -ডেস্ক