(দিনাজপুর২৪.কম) ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের অনুমোদিত বাজেটকে গণবিরোধী ও জনগনের পকেট কাটার বাজেট আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। প্রতিক্রিয়াশীল বাজেট মন্তব্য করে তা সংসদে পাস করার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গতকাল দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পুরক শুল্ক আইন ২০১২ আগামী ২ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত মনে হয় সরকার আবারও যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ পোষন করছে। ক্ষমতায় গিয়ে পুণরায় সে আইনটি চালু করে জনগনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে বলে মনে হয়। এ আইন দুবছরের  জন্য স্থগিত করা অশুভ ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী। আজকে যে বাজেট পাস হলো সেটি গণবিরোধী, উদ্ভটতামাশা, জীবনযাত্রারমানকে নি¤œমুখী করা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিসহ মানব উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করা ও জনগনের পকেট কাটার বাজেট। আমরা এ প্রতিক্রিয়াশীল বাজেটের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। রিজভী বরেন, সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। এতে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ১লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেনÑ ভিক্ষা অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে তারা বেরিয়ে এসেছেন। তারা নাকি নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতা নির্মাণ করেছেন। অথচ এবারই বাজেটের ঘাটতি মোকাবেলায় বাজেটেই বলা হয়েছেÑ বিদেশী ঋণ ৪৫ হাজার ৪২০ কোটি টাকা আর অনুদান হিসেবে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর প্রভাবে বিনিয়োগযোগ্য অর্থ হ্রাস পেতে পারে এবং সুদ পরিশোধের পরিমাণ বাড়বে। ফলে আর্থিক ব্যবস্থাপনা চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে। এতে প্রতিয়মান হয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল ভাওতাবাজি। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাত অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে। যা সমস্ত অর্থনীতিকে বড় ধরণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এই যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাজেটের ঘাটতি মেটানো হবে বন্যা প্রবণ নদীর তীরে বালির বাঁধ নির্মাণের শামিল। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেনÑ নিজের পায়ে নাকি বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে। ভয়ংকর আর্থিক নৈরাজ্যের মধ্যে দেশকে ঠেলে দিয়ে যারা পার্শ্ববর্তী দেশের মাটিতে পা রেখে চলেন তারা নিজের দেশকে কতটুকু নিজের পায়ের ওপর দাঁড়াতে সক্ষম করে তুলেছেন তা দেশবাসী এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, লুটপাটের জন্যই বিশাল ঘাটতির এ বাজেট পাস করা হয়েছে। উন্নয়নখাতে যে ব্যয় ধরা হয়েছে তার বেশীরভাগই লুটপাট হয়। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কয়েকমাস আগে প্রকাশ্যেই তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেনÑ উন্নয়নের ৬০ভাগ টাকা যায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের পকেটে। সুতরাং বলা যায়, আগামী ভোটের আগে ক্ষমতাসীন দলের লুটের বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। রিজভী বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত কর চাপিয়ে রাজস্ব আয় নির্ভর বাজেট হলো গরীব মারার বাজেট। কারণ রাজস্ব আয় যেসব খাত থেকে ধরা হয়েছে তা গরীবের পকেট কেটেই আদায় করা হবে। এক কথায় বলা যায় গরীব মারার এ বিশাল ঘাটতির বাজেট অলীক এবং জনগনকে ধোকাবাজির শামিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেনÑ আমরা কতটা গণতান্ত্রিক যে, নিজ দলের এমপিরাও অর্থমন্ত্রীকে ছাড় দেয়নি। এ প্রসঙ্গে আমাদের আর বলার কিছু নেই। তামাশা দেখতে ভালই লাগে। তবে চক্ষুলজ্জাহীন তামাশা মানুষের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের অভিনয় দেখে দেশের মানুষ বিস্মিত হতবাক। অর্থমন্ত্রীকে কেষ্টা বানিয়ে বাজেট নাটকটি দক্ষ পরিচালনার অভাবে জনগনের কাছে হাস্যপদ নাটকে পরিণত হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে নিজ দলের এমপিদের কটুবাক্য বর্ষনকে প্রধানমন্ত্রী উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের নমুনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আসলে তা হবে পাতানো একতরফা নির্বাচনে গঠিত ভোটারবিহীন সরকারের পাতানো গণতন্ত্র। মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাজেট অনুমতি পাওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা যদি প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর সমালোচনা করতেন তাহলে বোঝা যেত আওয়ামী গণতন্ত্রের ওজন কতটুকু। বিএনপির সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক কামারুজ্জামান রতনসহ দেশের নানা জায়গায় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, কামরুজ্জামান রতন তার মা-বাবার কবর জিয়ারত শেষে গজারিয়া থানার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে নিজ বাড়ীর উঠানে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদের আড্ডা করছিলেন। এসময় পুলিশ অতর্কিত হামলা করে নেতাকর্মীদের মারপিট করে বাড়ী শূন্য করে দেয়। কামরুজ্জামান রতনের ১০ বছরের ছেলেও রেহাই পায়নি। ওদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর গোপালগঞ্জের বাড়ীতে পুলিশ হামলা করে বাড়ীর আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া ভোলার লালমোহন উপজেলা যুবদল সভাপতি শাহীনুল কবিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে এবং আওয়ামী লীগে যোগদান করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। -ডেস্ক