(দিনাজপুর২৪.কম) অনির্বাচিত সরকারের পতন হবে জনগণের আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের মধ্য দিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে  তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।  ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক। রাস্তায় জ্যামের কারণে ইফতার গ্রহণের সময় খালেদা জিয়া লেডিস ক্লাবে উপস্থিত হন। এরপর ইফতার শেষে তিনি কয়েক মিনিট বক্তব্য রাখেন। বেগম জিয়া বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নির্বাসিত। আইনের শাসন অনুপস্থিত। মানবাধিকার ভূলুন্ঠিত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। মানুষ এখন প্রতিনিয়ত গুম, খুন, হত্যা, নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এজন্য দায়ি এ অনির্বাচিত জবর-দখলকারী সরকার। কারণ তারা কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, রোজার মাসে নিত্যপণ্যর উর্ধগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস। সাধারণ মানুষ আজ কষ্ট করে রোজা থাকছে। সেই দিকে এ অবৈধ সরকারের কোনো নজর নেই। তারা মিথ্যা কথা বলে আর বড় বড় বুলি আউড়ায়। বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট করে আর কমিশন খায়। খালেদা বলেন, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হয়েছে। শুধু বিএনপি করার কারণে ভাল ভাল চিকিৎসককে আজ চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের পুলিশ বাহিনী আজ চরম অত্যাচার ও দুর্নীতির সঙ্গে লিপ্ত। তারা গুম করে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মানুষকে ক্রসফায়ার, না হলে জেলে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ছিল জনগণের সেবক। কিন্তু আজ পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পুলিশ এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। ‘তারা বলে এ সরকারকে আমরাই টিকিয়ে রেখেছি। বোমা মেরে ও গাড়ী জ্বালিয়ে বিরোধীদলের লোকজনকে আটক করে তাদের আন্দোলনকে দমন করেছি।’ আজকে পুলিশের হাত আইনের চেয়েও লম্বা। আগে ছিল আইনের হাত লম্বা। সেই পুলিশের কাছ থেকে আজকে জনগণ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে পারে না। পুলিশের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগে এই অবৈধ সরকার নিজেদের লোকজনকে বসিয়েছে। তাই সেখানে সাধারণ জনগণ কোনো সুবিচার পায় না। অথচ আওয়ামী লীগের লোক হলে তাদের কিছুই হয় না। তারা পার পেয়ে যায়। এদিকে, জ্যামের কারণে ড্যাবের আরেক আমন্ত্রিত অতিথি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কি এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ইফতার শুরুর প্রায় ৫ মিনিট পর অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌছান। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রয়োজনে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আশাকরি ড্যাব এ ঐক্য প্রচেষ্টায় ভূমিকা পালন করবে।
ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা.এ জেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার চিকিৎসক-পেশাজীবী ইফতারে অংশ নেন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ, ঢাবি শিক্ষক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সদরুল আমিন, গণস্বাস্থ্যর প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এমএ মাজেদ প্রমুখ বিশিষ্টজনরা। এছাড়াও ড্যাবের ইফতারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। – (ডেস্ক)