(দিনাজপুর ২৪.কম) খুলনায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের হিসাবে এবার আপন চাচার হাতে নির্যাতনের শিকার হলেন আইমানা হাফিজ জিনিয়া (১৭) নামে মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছু এক ছাত্রী। হাত-পা বেঁধে ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথা ও চোখে আঘাত করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের রোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে নগরীর মুন্সীপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মামা মোল্লা আব্দুর রহীম জানান, সম্পত্তি নিয়ে জিনিয়ার বাবা হাফিজুর রহমান চুন্নুর সঙ্গে সহোদর মিজানুর রহমান লাবুর বিরোধ রয়েছে। বিরোধের জের ধরে লাবু তার ভাই চুন্নুকে নগরীর গগন বাবু রোডের পৈত্রিক বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ কারণে চুন্নু পরিবার-পরিজন নিয়ে মুন্সীপাড়া প্রথম লেনে শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এরপরও বিরোধ মেটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হঠাত্  করে মিজানুর রহমান নান্নু তার ভাই চুন্নুর মুন্সীপাড়াস্থ বাসায় যান। তখন চুন্নুর মেয়ে আইমানা হাফিজ জিনিয়া  বাসায় থাকলেও অন্য সবাই বাসার বাইরে ছিলেন। চাচা নান্নু ভাইঝি জিনিয়ার সাথে তর্ক-বিতর্কে      জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে জিনিয়ার হাত-পা বেঁধে কাঁচি দিয়ে তার মাথা ও চোখসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করেন। তার আর্তচিত্কারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে নান্নু পালিয়ে যান। স্বজনরা তাকে প্রথমে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন। ১১ বার তার বমি হয়েছে। জিনিয়া খুলনার মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেছে। সে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনা ইউনিটের একটি টিম হাসপাতালে জিনিয়াকে দেখতে যায়। জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিত জিনিয়ার মা হাসিনা আক্তার বাদী হয়ে খুলনা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাকে আইনি সহায়তা দেয়া হবে। তবে ঘটনা জানেন না বলে জানিয়েছেন খুলনা সদর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে আসলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।(ডেস্ক)