(দিনাজপুর২৪.কম) সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ায় তার প্রতিবাদে শনিবার (০৯জুন) সন্ধ্যায় ১হাজার ১শত এক চিকিৎসক বিবৃতি দিয়েছেন। উদ্বেক প্রকাশ করে চিকিৎসকরা বলেন, বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ, প্রতিরাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, কাশি ও জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসছেনা,ডান চোখ লাল হয়ে ফুলে গেছে, সার্ভভাইকাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে বাম হাত ধীরে ধীরে অবস হয়ে যাওয়ার আশংঙ্খা দেখা দিয়েছে, কোমরের সমস্যার কারণে তাঁর শরীরের বাম পাশ ও বাম পায়ের তীব্র ব্যথা ধীরে ধীরে নীচের দিকে নামছে। তিনি হাঁটা চলাও করতে পারছেন না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী, ২০ দলীয় জোটের প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত পরশু কারা অন্তরীন অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশের প্রথিতযশা ১১০১জন চিকিৎসক। তাঁর পরিবারের সদস্যরা গতকাল তাঁর সঙ্গে দেখা করে জানতে পারেন যে- তিনি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছেনএবং দুই সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছেন। চিকিৎসকের পরিভাষায় (TIA-Transient Ischemic Attack) রোগে ভুগছেন। কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর চিকিৎসা নিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর সুচিকিৎসার কোনযথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব তাঁর সুচিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর ৪বার চিঠি দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র নিকট আত্মীয় ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে আমরা চিকিৎসক সমাজসহ দেশের ১৬ কোটি জনগন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ন, স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত, নির্জন কারাগারে বন্দি করে রেখেছে বর্তমান অনির্বাচিত অবৈধ সরকার। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেরাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বর্তমান সরকার। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ জটিল নানা রোগে আক্রান্ত।

ইতোপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে চোখের অপারেশনও সম্পন্ন করেছেন। তিনি কোন সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষরোগী। সে হিসেবে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সকল সুবিধা নিশ্চিত করা সকল সভ্য গণতান্ত্রিক ও মানবিকতা বোধসম্পন্ন জাতির কর্তব্য।

উক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- অধ্যাপক ডাঃ মবিন খান, অধ্যাপক ডাঃ বায়েছ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডাঃ সিরাজউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক ডাঃ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক, অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডাঃ মতিউর রহমান মোল্লা, অধ্যাপক ডাঃ এ এস এম এ রায়হান, অধ্যাপক ডাঃ ফিরোজা বেগম, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ খাদিজা বেগম, অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডাঃ শাহাবুদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মঈনুল হাসান সাদিক, অধ্যাপক ডাঃ আজিজ রহিম, অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল কবির লাবু, অধ্যাপক ডাঃ হরুন অর রশিদ, ডাঃ আব্দুস সালাম, অধ্যাপক ডাঃ. আশরাফ উদ্দিন, ডাঃ সাইফুল ইসলাম সেলিম, অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোঃ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ শামিমুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ গোলাম মঈনউদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, অধ্যাপক ডাঃ সেলিনা খানম, অধ্যাপক ডাঃ মনির হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ তসলিম উদ্দিনম অধ্যাপক ডাঃ সেলিমুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ চৌধুরী মোঃ হায়দার আলী সহ ১১০১জন চিকিৎসক। -ডেস্ক রিপোর্ট