-পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাচ্ছেন- রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে এমন গুঞ্জন। তবে খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ ও দলের নীতিনির্ধারকরা জানান, করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যে আপাতত তার বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। ৬ মাসের মুক্তির মেয়াদের মধ্যে তার বিদেশে যাওযার সম্ভাবনা খুবই কম। মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।

আবেদনের পর সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপরই নির্ভর করবে তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি। জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হলে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার চিন্তাভাবনা করবেন তিনি। তার আগে দেশেই চিকিৎসা নেবেন। বর্তমানে গুলশানের ভাড়াবাসা ফিরোজায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার হাঁটুর ব্যথা কিছুটা বাড়লেও মানসিকভাবে শক্ত আছেন।

টানা ২৫ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য জামিনে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এ মেয়াদ শেষ হবে। খালেদা জিয়া এই আদেশের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করবেন। এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্থায়ী জামিনের মেয়াদের আবেদন করা হতে পারে।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। মুক্তির পর এখনো খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়নি। করোনার কারণেই সেটি সম্ভব হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দলীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি টিম রয়েছে। তাদের এক-দুজন নিয়মিত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ফলোআপ করছেন। এ ছাড়া পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান নিয়মিত তার চিকিৎসার তদারক করছেন। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন করে চিকিৎসা শুরু করবেন তিনি।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে গুঞ্জনের বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা কিছুই জানেন না। গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ভার্চুয়াল ওই বৈঠকেও চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে কেউ কিছু জানেন না বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কয়েকদিন আগে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এক পর্যায়ে জানতে চান, চেয়ারপারসনের লন্ডনের যাওয়ার গুঞ্জনের বিষয়ে। জবাবে তারেক রহমান ওই নেতাকে বলেছেন, চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি তিনিও জানেন না।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভিসা আবেদনকেন্দ্র বন্ধ আছে। এ সময়ের মধ্যে কারও আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যমে খবর আসেÑ সম্প্রতি খালেদা জিয়া এবং তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ব্রিটিশ ভিসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সিনিয়র প্রেস অফিসার মেহের নিগার জেরিনকে ই- মেইল করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, তারা ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন না।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসার বিষয়টি আলোচনায় এলে ওই ব্যক্তি জানতে চান, ‘ম্যাডাম আপনার যে শারীরিক অবস্থা তাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে কিছু ভাবছেন কিনা। জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এবং বিশ্বের যে পরিস্থিতি তাতে এই মুহূর্তে যাওয়া ঠিক হবে না। ওই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আপাতত চেয়ারপারসন যে বিদেশ যাচ্ছেন না, তা তার মনোভাব দেখে বোঝা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এগুলো পুরোপুরি মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা তো নেই, এমনকি পরিবার এখনো পরবর্তী কিছু নিয়ে আলোচনা করেনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। ওই শর্তের মধ্যে রয়েছে জামিনে থাকাকালে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না। গুলশানের বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে। তাই খালেদা জিয়া চাইলেও বিদেশ যেতে পারবেন না। এজন্য তাকে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। সরকার অনুমতি দিলেই কেবল তিনি বিদেশ যেতে পারবেন। তাই তার বিদেশ যাওয়াটা অনেকটা সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যে কারণে ম্যাডামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে কারণ এখনো রয়েছে। করোনার কারণে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি। তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়নি। স্বাভাবিক কারণে প্রয়োজনবোধে আবার সরকার মানবিক কারণে সময় বৃদ্ধি করতে পারে। তবে এটির জন্য আবেদন করতে হবে। যেহেতু তার মুক্তির প্রক্রিয়াটি নির্বাহী আদেশে হয়েছে, সে কারণে আবারও আবেদন করার মধ্য দিয়ে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করতে হবে।

অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, সরকার ওনাকে চিকিৎসা করানোর জন্য মুক্তি দিয়েছেন। ওনার হাঁটুর চিকিৎসা বিদেশে হয়েছে। গত সোয়া দুই বছর ধরে ওনার চেকআপ নেই। এখন ব্যথা করছে। তার বাম হাতটা বেঁকে গেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন উনি চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আবার হাসপাতালগুলোও প্রস্তুত না। পরিবার থেকে প্রথমেই সরকারের কাছে আবেন করা হয়ছিল তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য। সেক্ষেত্রে সরকার বিবেচনা করতে পারে। -ডেস্ক