(দিনাজপুর২৪.কম) দীর্ঘ ২৫ মাস কারাভোগের পর গত ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপরের দিন থেকেই করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর হোম কোয়ারেন্টিন বুধবার শেষ হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় অসুস্থ খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘স্টে অ্যাট হোম’ থাকবেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা।

মুক্তি পাওয়ার পর থেকে ডা. জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে দেশে ছয় সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. এফএফ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম, অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন এবং ডা. মামুন।

জানতে চাইলে বোর্ডের সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে।

সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাবন্দি খালেদা জিয়া গত ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে গুলশানের ভাড়াবাসা ফিরোজায় আসেন। বাসায় ফেরার পর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তার সঙ্গে নার্সসহ সেবা প্রদানকারী কয়েকজন সদস্যও সেলফ কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ফিরোজায়।

জাহিদ বলেন, ম্যাডাম আগের চেয়ে মানসিকভাবে ভালো আছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার পুরনো রোগগুলো জটিল আকার ধারণ করে। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি। এর মধ্যে তো ম্যাডামের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনায় যতদূর সম্ভব আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। -ডেস্ক