(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানী গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এই প্রথম নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি—এ পর্যন্ত বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এসময় গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থলে থাকা দলটির অন্য নেতারাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাঁদতে থাকায় প্রায় ২ মিনিট তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি। এরপর আবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। সোমবার (২৬নভেম্বর) বিকেল থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতাদের হাতে প্রত্যায়নের চিঠি হস্তান্তর শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম চিঠিটি নিয়ে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবর রহমান সরোয়ার। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্তদের চিঠি বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল। তবে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বক্তব্য দেন, বিএনপি কেন এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে আবার জানান তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো আলামত তিনি দেখছেন না বলেও জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে তাঁকে ছাড়া এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা আন্দোলন সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে চাই, জনগণের ভোটাধিকার ফেরত আনতে চাই। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। যাতে স্বৈরাচার দূর করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারি।

এসময় বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্ট থেকে সাত দফা দাবি দিয়েছি তা আদায়ে জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেছি, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। আর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন।

কিন্তু ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী হন খালেদা জিয়া। এখনো তিনি জেলে আছেন। এই নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত। খালেদা জিয়া তিনটি আসনে দলের প্রার্থী হচ্ছেন বলে বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে। এগুলো হলো ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭। -ডেস্ক