সাকিব (দিনাজপুর২৪.কম) শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। বর্ষা মৌসুমে এ দেশের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা জলাশয়, পুকুর-ডোবা, নদী-নালা ও খালবিল এক সময় শাপলায় ভরে যেতো। গ্রামের চারদিকে তাকালে দেখা যেতো শাপলা আর শাপলা। কিন্তু এ ফুল এখন বিলুপ্তির পথে।দিনাজপুরের খানসামার একাধিক গ্রাম ঘুরে মাত্র গুটি কয়েক পুকুরে শাপলা ফুল দেখা গেছে। ‘মালবিসি’ গোত্রের এই উদ্ভিদ কোন প্রকার পরিচর্যা ছাড়াই পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে জন্মে থাকে। দেশে এক সময় বর্ষার শুরু থেকে শরৎ ঋতু পর্যন্ত সাদা আর লাল শাপলা গ্রামেরগুলোকে অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে রাখতো। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সেই ফুল তুলে মালা গেঁথে মেতে থাকতো নানা খেলায়। শাপলার ডাটা একদিকে যেমন সবজি অন্যদিকে শাপলার মূল ওষুধ এবং ফুল ফোটার পর কিছুদিনের মধ্যে ফল জন্ম নেয়। আর ওই ফলের ভেতরে থাকে অসংখ্য কালো কালো দানা। যে কারণে গ্রামের লোকজন এ ফলকে বলে ‘চাউলিয়া’ বা ‘ঢ্যাপ’। শাপলার চাল রোদে শুকিয়ে গ্রামের মহিলারা ভাজতো ঢ্যাপের খৈ। এরপর বর্ষা চলে গেলে শুকনো মৌসুমে ছেলেমেয়েরা ওই সব ডোবা নালা থেকে কুড়িয়ে আনতো শালুক। আগুনে পুড়ে শালুক খেতে দারুণ স্বাদ। কিন্তু বিলুপ্ত প্রায় এই শাপলা এখন স্মৃতির আসনে জায়গা নিতে যাচ্ছে।
পুকুর, নদী, খাল ভরাট করে মানুষের আবাস তৈরি ও কৃষিতে অতিমাত্রায় আগাছা নাশক ওষুধ প্রয়োগের কারণে গ্রামগঞ্জের শাপলার জন্মস্থলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে দেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।