আব্দুল মোমেন (দিনাজপুর২৪.কম)  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খানসামা উপজেলা ছাত্র সংসদ (ডুকাস) এর এক বছরের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রুবেল হাসান খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. লিটন ইসলাম।
এছাড়াও সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন মো. রুবেল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহারুল ইসলাম সামু, দপ্তর সম্পাদক পপি রায় ও প্রচার সম্পাদক রায়হান হককে মনোনীত করা হয়েছে নতুন কমিটিতে।
মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খানসামা উপজেলা ছাত্র সংসদ (ডুকাস) গত এক যুগ ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাসব্যাপী ফ্রি ক্লাস পরিচালনা করা, মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে সহায়তা করা, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাতায়াত খরচ বহন ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকে।
এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি প্রতি বছর দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে সচেতনা বৃদ্ধি করা, মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, শীতবস্ত্র বিতরণ করাসহ ইত্যাদি সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য সংগঠনটি ২০১৫ সালে সেরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ‘জয় বাংলা ইয়্থ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার অর্জন করে।
২০০৮ সালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে উঠে ডুকাস। প্রতি বছর খানসামা উপজেলায় ডুকাসের গাইড লাইন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়।
ডুকাসের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদ হাসান, গৌরাঙ্গ সরকার সন্তোশ, ইব্রাহীম সরকার, সুশান্ত কুমার সরকার ও মিজানুর রহমানের হাত ধরে গড়ে উঠে সংগঠনটি। তৎকালিন সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানসামা উপজেলা থেকে অধ্যায়ণত ছিল।
ডুকাসের প্রতিষ্ঠাতারা জানান, ডুকাস সংগঠনটি মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এখানে যা কিছু করা হয় সবটাই আমাদের নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে। আমরা প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী ফ্রি সেমিনার করে থাকি। আমাদের লক্ষ্য হলো খানসামা উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থী থাকবে। সবার ঘর শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। ইতোমধ্যে খানসামা উপজেলা থেকে দেশের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন বলেও জানান তারা।