[images cols=”five”]
[image link=”#” image=”11669″]
[/images] (দিনাজপুর২৪.কম)
শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান দাবি করেছেন, ধর্ম অবমাননার দায়ে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তিনি শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে শাস্তি দিয়েছেন। এটি যদি অন্যায় হয়ে থাকে, সাজার যোগ্য অপরাধ হয়ে থাকে, এতে যদি ফাঁসিও হয় আমি মাথা পেতে নেবো। আমি ক্ষমা চাইব না। আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার পিয়ার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন সেলিম ওসমান।
ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম ওসমান বলেন, আমি ক্ষমা কার কাছে চাইব। এটি দুঃখজনক ঘটনা। ঘটনার পর সরকার দলের লোকজন আমাকে ক্ষমা চাইতে বলছেন। কিন্তু ঘটনার বিষয়ে সরকারের মন্ত্রী-এমপি কেউ আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। এমনকি তদন্ত কমিটিও আমার কাছে কিছু জানতে চায়নি।
তিনি বলেন, শ্যামল কান্তি আল্লাহ ও আল্লাহ’র রসুলকে নিয়ে যে কটুক্তি করেছে তার জন্য আমি শাস্তি দিয়েছি। আমি এলাকাবাসীর দাবিতে সেখানে গিয়েছি। নিজে থেকে যাইনি। ওই দিন ওই শিক্ষক জনতার রোষ থেকে প্রাণে বাঁচানোয় পরে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে কৃতজ্ঞতা পত্র দিয়েছে। এটিও আমার কাছে আছে। এছাড়া ওই শিক্ষক যে ধর্মীয় বিষয়ে আঘাত এনেছেন তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।
ঘটনার বিষয়ে সেলিম ওসমান বলেন, আমি তখন শিক্ষকের কাছে যাই। তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কথা স্বীকার করেন। শিক্ষকের কাছে জানতে চাই, তোমার কী শাস্তি হবে? তিনি যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলে জানান। সেলিম ওসমান দাবি করেন, ওই শিক্ষক নিজেই কান ধরে ওঠবস করার প্রস্তাব দেন। এতে আমি রাজি হই। শিক্ষক স্বেচ্ছায় কান ধরে ওঠবস করেন। আমি যা করেছি একজন মানুষের জীবন রক্ষার জন্য।
তিনি বলেন, ওই দিন আমিই পুলিশকে বলে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করি। হাসপাতালে সব চিকিৎসার খরচ বহন করেছি।
জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান বলেন, কেউ কেউ বলেছে আমাকে নাকি গণধোলাই দেবে। উপস্থিত নেতা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাকে যখন গণধোলাই দিতে আসবে তখন কি আপনারা চুড়ি পরে বসে থাকবেন?’ এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা না বলে জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক