(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতে এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে শুরু থেকেই সরব পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র আইন করলেও পশ্চিমবঙ্গে কোনভাবেই এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন কার্যকরা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে হিংসার পথে না যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন এই তৃণমূলনেত্রী। সোমবার থেকে নিজেও পথে নেমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মমতা। সোমবারের পর মঙ্গলবারও যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন তৃণমূলনেত্রী। সোমবার তৃণমূলের মিছিলে দলের সাংসদ, বিধায়ক ও অন্য জন প্রতিনিধি ছাড়াও সামিল ছিলেন সিনেমাজগত ও ক্রীড়াজগতের বিশিষ্টরা।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে সোমবারও কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেন তৃণমূলনেত্রী। কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতার সওয়াল, ‘কোনভাবেই এরাজ্যে নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি কার্যকর করা হবে না। দেশ ও বাংলা ভাগ মেনে নেব না। কাউকে বাংলা ছাড়তে দেব না।’

এরই পাশাপাশি সংসদে নাগরিকত্ব বিল পেশ প্রসঙ্গেও বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অভিযোগ, ‘কবে নাগরিকত্ব বিল সংসদে পেশ করা হবে সে ব্য়াপারে আগে থেকে কিছুই জানায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। আগে থেকে না জানায় অনেক সাংসদই সংসদ ভবনে সেদিন পৌঁছতে পারেননি। দুপুরে বিল এনে রাতেই গায়ের জোরে তা পাশ করিয়েছে কেন্দ্র। সংখ্য়ার জোরে আইন তৈরি করা হয়েছে।’

এদিন আরও একবার কেন্দ্রের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূলনেত্রী। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মমতা আরও বলেন, ‘সংখ্য়ার জোরে আইন তৈরি করা যায়। তবে মানুষের সমর্থন না থাকলে সেই আইন কার্যকর করা যায় না।’একইসঙ্গে এদিন নোটবন্দি নিয়ে ফের কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী, এপ্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘উদ্দেশ্য়প্রণোদিতভাবে নোটবন্দি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটে জিততেই নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।’

এরই পাশাপাশি দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি পদক্ষেপেরও কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর। পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

গত কয়েকদিনে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনের নামে যাঁরা ভাঙচুর, আগুন জ্বালিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। ভাঙচুর, আগুন লাগানোর ঘটনায় ৬০০-৭০০ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানান তিনি। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও চক্রান্তের অভিযোগে সরব তৃণমূলনেত্রী। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গত কয়েকদিন ধরে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল কেন্দ্র বন্ধ রেখেছে বলেও এদিন অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে সোমবার আরও একবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বুধবারও হাওড়া ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত তৃণমূল প্রতিবাদ মিছিল করবে বলে জানান তৃণমূলনেত্রী।-ডেস্ক