মো. জাকির হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) এ্যানোনা মিউরিকাটা গোত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধক ফল করোসল  ধরেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বন্দর খড়িবাড়ী গ্রামে একটি ঔষধী ও ফলজ বৃক্ষের বাগানে। এই ফলের গাছ সংগ্রহ করা হয়েছিল আফ্রিকার আইভরিকোস্টেস থেকে। ছয়টি গাছের মধ্যে একটি গাছে একটি ফল ধরেছে। যা প্রচার পাওয়ায় ওই ফলটি এক নজর দেখতে মানুষজন ভিড় করতে শুরু করেছে ওই বাগানে। দুই একর জমির উপর ওই বাগানে করোসল সহ প্রায় মানবদেহের উপকারীতা এমন দুই শতাধিক ঔষধি ও ফলজ গাছ রয়েছে।  ওয়েবসাইটে ঢুকে ক্যান্সারের প্রতিষেধক হিসেবে এই করোসল ফলের পক্ষে বিশেষজ্ঞদের বহুবিধ মতামত দেখতে পাওয়া যায়। অনেক দেশেই এই করোসল ক্যান্সার প্রতিরোধক ফল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে আফ্রিকা, ভারতের উত্তর প্রদেশ ও শ্রীলংকায় বেশী আবাদ হচ্ছে ফলটি। যা এখন বাংলাদেশেও পরিচিতির পাশাপাশি প্রসারতা লাভ করতে শুরু করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাংলাদেশের অনেক এ্যানোনা মিউরিকাটা গোত্রের ক্যান্সার রোগীকে অঙ্কলজি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ক্যামোথেরাপীর বিকল্প হিসাবে করোসল ফলটি কাঁচায় কেটে খাওয়াতে ভারত থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। ভারতে ২শত গ্রাম ওজনের এই ফলটির মূল্য পড়ে সাড়ে ৯ শত রুপী। এটি ওই রোগীকে খাওয়ালে ক্যামো থ্যারাপির প্রয়োজন হয়না।
বাংলাদেশের ক্যান্সার রোগীদের জন্য সু-সংবাদ হচ্ছে যে বালু মাটিতে করোসল ফলছে। বিশেষ করে  উত্তারাঞ্চলের ব্যাপকভাবে করোসল চাষ করলে ক্যান্সার রোগীদের ক্যামো থ্যাপাপির জন্য বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করতে আর হবে না।
নীলফামারীর ওই গ্রামের ঔষধী ও ফলজ  বাগানের মালিক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আলমাস রাইসুল গনি। এটি তার গ্রামের বাড়ি।  যা তিনি তিনি সখের বসবতি হয়ে নিজ বসতভিটায় দুই শতাধিক বিভিন্ন জাতের ঔষধী ও ফলজ গাছ রোপণ করেছেন। বিভিন্ন দেশ  ঘুরে চারা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে তিনি  বাগানটি তৈরি করেন। যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করেন মানব দেহের উপকারী শতাধিক ঔষধি ফলজ গাছ। মানবদেহের ক্যান্সার প্রতিরোধক করোসল গাছ ২০১১ সালে পশ্চিম আফি”কার আইভরিকোস্ট হতে সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ৫ বছর বয়সী ৬টি গাছের মধ্যে একটি গাছে ১টি ফল ধরেছে। যার আনুমানিক ওজন ২৫০ গ্রাম। পরিপূর্ণ ওই বাগানের প্রতিটি গাছের পরিচিতির জন্য নাম সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।বাগানটিতে অন্যান্য ঔষধী গাছের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন সমৃদ্ধ সালাদের জন্য এ্যাভোকদু, থাইল্যান্ডের লংআন, চিকেনএ্যাগফ্রুট, ম্যাঙগ্যাসটিন (টকআদা), জাপাটি কাবা, পিছফ্রুট, জারুল বালি (বেল জাতীয়), অলস্পাইস, পেসতা বাদাম, জাপাটি কাবা, শরিফা, আলু বোখরা। এ ছাড়া কদবেল, কমলা, সবেদা, চেরি, হরতকী, তেঁতুল, খেজুর, চালতা, কদবেল, হরতকী সহ ২শতাধিক ফলের গাছ।
এ বাগান সঠিকভাবে পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন দুইজন কেয়ারটেকার জুয়েল ইসলাম  ও তফিজুল ইসলাম। তারা জানায়, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আলমাস রাইসুল গনি  আমাদের শুধু এই গাছ রক্ষণাবেক্ষণের জন্যই রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি নিজেও  গাছের খোঁজ-খবর নেন। গাছের কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রয়োজন অনুযায়ী গাছের রোগের চিকিৎসা, পরিমিত পানি ও খাদ্য দিয়ে থাকেন । তারা বলেন কর্নেল সাহেব ঢাকায় থাকেন। প্রতিমাসে দুই তিনবার করে এসে গাছের সঙ্গেই সময় কাটান। তিনি এলেই দিনরাত প্রতিটি গাছের কাছে গিয়ে ভালমন্দ দেখেন ও প্রয়োজনে নিজেই পরিচর্যা করেন।
এ বিষয়ে কর্নেল (অব.) আলমাস রাইসুল গনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরির কারণে বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছিল। যেদেশেই যেতাম সেখানেই খুঁজে নিতাম মানব দেহের জন্য উপকারী বৃক্ষ । যা সংগ্রহ করে নিজ গ্রামের বসতভিটায় এ বাগান তৈরির চেষ্টা চালিয়েছি। কতখানী সফলতা পাবো সেটি বলা যাবেনা। তিনি আরও বলেন, মানব দেহের উপকারী ঔষধি গাছের বাগানটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় লাগানো হয়নি।
নীলফামারীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আফতাব হোসেন জানান, দেশের প্রতিটি নাগরিককে ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি ঔষধি গাছ লাগানোর জন্য সরকারিভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নিজ উদ্যোগে শতাধিক ঔষধি গাছের পাশাপাশি কর্নেল আলমাস রাইসুল গনির বাগানটি করোসল ফল উত্তরাঞ্চলের মডেল বাগান হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে বানিজ্যিক ভাবে করোসল চাষ ব্যাপক ভাবে প্রসারিত করা সম্ভব । যা প্রসারতা পেলে ক্যান্সার রোগ নিরাময়ের জন্য ক্যামো থ্যারাপির জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবেনা।