inzamam-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ ইনজামাম উল হক। দু’দিন আগে ভারতের এ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে এক মন্তব্য করেন ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। ভারতীয় উইকেটের কারণে কোহলির ব্যাটিং দুর্বলতা আড়ালে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের বাইরে কোহলি বেশি ম্যাচ খেললে এত রান করতে পারতো বলে মনে করেন তিনি। এমন মন্তব্য করে বিপদে পড়েছেন অ্যান্ডারসন। কাউকে পাশে পাচ্ছেন না তিনি। আর এবার কোহলির হয়ে অ্যান্ডারসনের জবাব দিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হক। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নির্বাচকম-লীর প্রধান মনে করেন, শুধু ইংল্যান্ডের মাটিতে ব্যাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে কাউকে ভাল-মন্দ বিচার করা যায় না। কোহলিকে অ্যান্ডারসনের এমন খোঁচার পেছনে যুক্তি- ইংল্যান্ডের মাটি। ইংল্যান্ডের মাটিতে কোহলির ব্যাটিং গড় সবচেয়ে খারাপ- ১৩.৪০। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তার ব্যাটিং গড় ঈর্ষণীয়। এই দেশগুলোর মাটিতে তার ব্যাটিং গড় যথাক্রমে ৬২.০০, ৭১.৩৩, ৬৮.০০, ৩৮.৮৩ ও ৩৬.৩৩। তবে মজার কথা হলো, ইংল্যান্ডের পর কোহলির সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং গড় বাংলাদেশের মাটিতে- ১৪.০০। দেশের মাটিতে কোহলির ৫২ টেস্টে ব্যাটিং গড় ৫০.৫৩। আর দেশের বাইরে ২৮ টেস্টে ৪৪.৬১। বিদেশে যে কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য এমন গড় ঈর্ষণীয়। কিন্তু ইংল্যান্ডের মাটিতে খারাপ করায় তার সামলোচনা করেন জেমস অ্যান্ডারসন। তার এই সমালোচনায় বিস্মিত ইনজামাম। বলেন, ‘কোহলির রান ও যোগ্যতা নিয়ে অ্যান্ডারসন প্রশ্ন তোলায় আমি বিস্মিত। তাকেও তো ভারতের মাটিতে খুব একটা উইকেট পেতে দেখিনা। আপনি যদি ইংল্যান্ডের মাটিতে রান পান তাহলে-ই কেবল ভাল ব্যাটসম্যানের সার্টিফিকেট দেয়া হবে- অ্যান্ডারসন কি এটা বলতে চেয়েছে? ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা কি উপমহাদেশের মাটিতে এসে ভোগে না? তাতে কি এটা প্রমাণিত হয় যে, তারা দুর্বল দল ও বাজে খেলোয়াড়? আপনি কোথায় রান করলেন সেটা বড় বিষয় নয়। টেস্টে সব সমান।’ কোহলির প্রতি ইনজামাম নিজের মুগ্ধতার কারণও জানালেন, ‘আমি একজন ব্যাটসম্যানকে বিবেচনা করি তার রান দলকে জেতাতে কতটা ভূমিকা রাখে তার ওপর ভিত্তি করে। কারো ৮০ রানের ইনিংস যদি দলকে জেতায় আর ১৫০ রানের ইনিংস খেলেও দল হেরে যায় তাহলে আমার কাছে প্রথম ইনিংসটি গুরুত্বপূর্ণ। কোহলি দুর্দান্ত একজন ব্যাটসম্যান। সে রান পেলে দল ভাল করে। সে দলকে জেতাতে পারে।’
পাক-ভারত সিরিজ নিয়েও কথা বললেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকম-লীর প্রধান। বলেন, ‘দুই দেশের মানুষই পাক-ভারত সিরিজ দেখতে চায়। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈকিত অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সম্ভবত এটা হচ্ছে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় ভারতের বিপক্ষে খেলতে উদগ্রীব থাকতাম। এটা আমাকে ভাল খেলোয়াড় হতে সাহায্য করে। আমি মনে করি, অ্যাশেজের চেয়ে পাক-ভারত সিরিজ বেশি আকর্ষণীয় ও উত্তেজনাময়।’ -ডেস্ক