(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন সহস্রাধিক ব্যাক্তি। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছেন কয়েক ডজন মানুষ। বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে স্থানীয় এনজিও গুলোর একটি গ্রুপ। এতে বেড়িয়ে এসেছে যে, করোনাকালীন সময়ে দেশের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ৩ জনই স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্রাকের এক বিশেষজ্ঞ কেএএম মোরশেদ জানিয়েছেন, যারা কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন তারা সবাই পিরামিডের নিচের অংশের মানুষ। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ দরিদ্রে পরিণত হচ্ছে।
গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ অর্থনৈতিক কিংবা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছে।

এরমধ্যে ৫ কোটি ৩৬ লাখের অবস্থা খুবই করুণ। এই মানুষরা প্রতিদিন ১৬০ টাকা বা ১.৭ ইউরোর কম আয় করে থাকেন। ২৬ মে পর্যন্ত চলা গবেষণায় বলা হয়েছে, এই অংশের বেশিরভাগ মানুষ জানিয়েছেন যে তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। কোভিড-১৯ এর কারণে দেয়া লকডাউনে প্রতিনিয়ত মানুষ ক্রমশই দরিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছে। যারা আগেই গরীব ছিলেন তারা তীব্র দারিদ্র্যতায় পতিত হচ্ছেন।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনোমিক মডেলিং বা সানেম জানিয়েছে, মহামারি শেষে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের সংখ্যা দুইগুন হয়ে ৪০.৯ শতাংশ হতে পারে। দরিদ্ররা যেহেতু আরো দরিদ্র হচ্ছেন তাই সমাজে আয় বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান অস্থিতিশীল। ফলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষই অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। মার্চ ও মে মাসে দেশের গড়পরতা পারিবারিক আয় ৭৪ ভাগই কমে গেছে। বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, যদি এই মানুষরা ক্ষুধা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে তাহলে তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো উপায় নেই।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, মার্চ ও মে মাসে দেশের কৃষকরা প্রায় ৫৬৫ বিলিয়ন টাকা বা ৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম জানিয়েছে, যদিও এ বছর পৃথিবীতে প্রয়োজনের অধিক খাদ্য উৎপাদিত হয়েছে, কিন্তু যোগাযোগের সুবিধা না থাকায় ও সাপ্লাই চেইন ভেঙ্গে পরায় বিশ্বে মহামারি দেখা দিতে পারে।
কৃষির পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প খাতও তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে। এরমধ্যে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পোশাক শিল্প। এই খাত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগের বেশি নিশ্চিত করছে। এ খাতের ওপর নির্ভর করে কমপক্ষে ৪০ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি আঘাত হানায় তাদের অর্থনীতি ভেঙ্গে পরতে শুরু করে। লকডাউন থাকায় বন্ধ থাকে বেচাকেনাও। ফলে বাংলাদেশি পোশাকের ক্রেতা রাষ্ট্রগুলোতে চাহিদা কমতে শুরু করে। গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এ বছর পোশাক উৎপাদন কমে আসে ৮৪ ভাগেরও কমে। এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ১০০০ এর বেশি কারখানা। চাকরি হারিয়েছেন ২২ লাখ শ্রমিক।
এক্সপোর্ট প্রোমশন ব্যুরোর দেয়া তথ্যমতে, মার্চ মাসে বাংলাদেশ রপ্তানি খাত থেকে মোট আয় করেছে ৪৪.১৪ বিলিয়ন টাকা। যেখানে গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৫৬.৬৬ বিলিয়ন টাকা। মহামারির প্রভাব পড়েছে রেমিটেন্সেও। মার্চে রেমিটেন্স আসা কমে এসেছিল ১২ শতাংশ। এপ্রিলে এটি হয়েছে ২৫ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে এরইমধ্যে ১৪ লাখের বেশি প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। তাদের একটি বড় অংশই কার্যত বেকার হয়ে যাবে আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি চলমান অর্থনৈতিক সংকট ভারসাম্যপূর্নভাবে মোকাবেলা না করা যায় তাহলে সমাজে বৈষম্যতা তীব্র রূপ ধারণ করবে। ধনীরা ধনীই থেকে যাচ্ছে কিন্তু দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হয়ে পরছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ সময়ের জন্য আর্থ-সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বাংলাদেশকে। -ডেস্ক