স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) এবারের কোরবানির ঈদে পশুর হাট গুলোতে দিনাজপুর জেলার গরুর খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের লোকসান গুনেছেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় অনেকেই লসে গরু বিক্রি করেছেন। পথে বসার উপক্রম প্রায় আড়াই হাজার খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীর। জানা গেছে, সারাদেশে এই অঞ্চলের গরুর খ্যাতি ও চাহিদা থাকায় জেলার সদর উপজেলা বাদে বাকি ১২ উপজেলার খামারি ও চাষীরা ক্রস জাতের পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড ও দেশি জাতের গরু পালন করেন। কিন্তু এবার দেশের কোরবানির পশুর হাট গুলোতে সরবরাহ বেশি থাকায় গরুর দরপতন ঘটে। দিনাজপুর জেলার খামারি ও চাষীরা জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৮০ হাজারের বেশি পশু দেশের বিভিন্ন হাটে সরবরাহ করেছিলেন। গরু ব্যবসায়ীরা খামারি ও চাষীদের বাড়ি থেকে নগদ-বাকিতে গরু কিনে বিক্রির জন্য সড়ক ও নৌপথে ঢাকা, সিলেট, চিটাগাংসহ বিভিন্ন জেলার পশুরহাটে নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে কেউ লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছেন, আবার অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে ফেরত এনেছেন। চিরিরবন্দর উপজেলার গরু ব্যবসায়ী আলী বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলায় এখন ছোট-বড় অনেক গরুর খামার গড়ে উঠেছে। ঈদের দুই দিন আগে হঠাৎ গরুর দাম কমে যাওয়ায় এক লাখ টাকা দামের গরু ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। বিরল হালজা গ্রামের ভবেশ জানান, ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে ৫৫টি গরু এনেছিলেন। লোকসানে দিয়ে ৩৬টি গরু বিক্রি করেছেন। বাকি গুলো ফেরত আনা হয়েছে। রাণীপুকুর গ্রামের রহমত ব্যাপারী, ২৯৩টি গরুর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১২৫টি। অবিক্রিত গুলো ফেরত এনেছেন। তাদের লোকসান প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দিনাজপুর জেলার আড়াই সহস্রাধিক গরু ব্যবসায়ী ও খামারি প্রত্যেকে গড়ে ৫০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিয়েছেন। বাকি টাকা না পাওয়ার আশঙ্কায় এখন অনেক খামারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ খামারি ও চাষীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিজেদের আড়ালে রাখছেন। দিনাজপুরে গো-খামারি ও চাষীদের দুর্দিন চলছে। লোকসানে ভেঙ্গে পড়েছেন অনেকেই। এখন কি করবেন তারা? পরিবার পরিজন নিয়ে আছেন মহা টেনশনে। হঠাৎ ঈদের বাজারে পশুর এ রকম দর পতন হবে আশা করেননি কেউ।
দিনাজপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিনুর আলম জানান ও অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকা আকবর তৃষা- অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পারভীন সুলতানা যৌথ বিবৃবিতে এ প্রতিনিধিকে জানান, দিনাজপুরে ব্যাপকভাবে প্রাণী সম্পদ রয়েছে। ১৩ থানায় ব্যাপক হারে এখানে পশু পালন করে দিনাজপুরের মানুষ। রয়েছে বড় বড় গো-খামারীও। এবার দেশী গরুর সরবরাহ ভাল থাকায় অনেক খামারী ও ব্যবসায়ীরা আগের তুলনায় দাম পায়নি। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে দাম ঠিকই আছে। গুটি কয়েক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়লেও বেশির ভাগ খামারী ও ব্যবসায়ীরা কোরবানি ঈদে গরুর ভাল দাম পেয়েছে।