(দিনাজপুর২৪.কম) বুধবার (১১মার্চ) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা সংস্কার নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷ বুধবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান৷ ঢাকার ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘আপনারা ধৈর্য ধরুন, প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখুন৷ তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা৷ আজ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন তিনি৷’’

এদিকে, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেইন ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন৷ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এমন বক্তব্য দেন বলে তাঁরা দাবি করেন৷

পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ছাত্রলীগের সভাপতি৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা করেছি, তিনি আমাদের বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকবে না৷’’ সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি৷

তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-’এর যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগের স্ট্যাটাস দেখেছি৷ অন্য কারও মুখ থেকে নয়, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ও সরাসরি সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবো না৷’’

আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন৷ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ আরও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধে অংশ নেন বলে জানা গেছে৷

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার বিকেলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল৷ তবে আন্দোলনকারীদের একাংশ তা না মেনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন৷ পরে কৃষিমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দু’টি বক্তব্যের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়৷ ফলে, যাঁরা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরাও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবারও আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দেন৷

সেই সময় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে নুরুল হক নূর বলেছিলেন, ‘‘সংসদে দাঁড়িয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ৮০ শতাংশ আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করেছেন৷

আর অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটের আগ পর্যন্ত কোটা সংস্কার সম্ভব নয়৷ এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া আমরা মানি না৷’’ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি৷

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বুধবার শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছেলেরা রাস্তায়৷ আমি কোটা সংস্কারের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি৷ সরকারকে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে৷’’

তিনি বলেন, “কোটাবিরোধী’ শব্দ ব্যবহার করা যৌক্তিক নয়। তবে কোটা সংস্কারের দাবি যৌক্তিক। আমি কোটা সংস্কারের এই যৌক্তিক দাবি সমর্থন করি এবং সরকারের প্রতি বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানাই।’ কোটা সংস্কার যেহেতু করতেই হবে তাই যত দ্রুত সম্ভব এর যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতি দ্রুত কোটা সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। -ডেস্ক