(দিনাজপুর২৪.কম) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছে আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়ে আসা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তবে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (৩১জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে এই ঘোষণা দেন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরুল হক নূর। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও ছাত্রী-শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার, আটকদের মুক্তি এবং ঘোষিত ৫ দফার আলোকে প্রজ্ঞাপনের দাবিতে এর আগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকার পর মঙ্গলবার মিছিলে যোগ দেন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরুল হক নূর। মিছিলের সামনে তাকে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বেধড়ক মারধোরের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নূর। বিক্ষোভ মিছিলটি সাড়ে ১১ টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে কলাভবন, টিএসসি, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর ঘুরে রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য দেন নূরুল হক নূর। সমাবেশে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন কর্মসূচি স্থগিতের পাশাপাশি তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

দাবিগুলো হচ্ছে- আন্দোলনে গ্রেপ্তার ছাত্রদের মুক্তি, দেশের সব ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং আন্দোলনের ৫ দফার আলোকে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন।

সমাবেশে নূর বলেন, “এই আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ওপর দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে, কারণ একটাই যাতে ছাত্রসমাজ কোনো আন্দোলন না করতে পারে। “আর এই ছাত্রসমাজ যদি আন্দোলন না করতে পারে তাহলে এদেশের কোনো মানুষ যৌক্তিক দাবিতে রাজপথে নামার সাহস পাবে না। তাহলে রাষ্ট্রের যে নিপীড়ক চরিত্র তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এবং বাংলার জনগণ ধুঁকে ধুঁকে মরবে, কেউ কোনোদিন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোটা আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “আপনি ছাত্রদের নিয়ে বসুন, তাদের কথা শুনুন। আমার বিশ্বাস আপনি তাদের নিয়ে বসলে অতি দ্রুত তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেবেন।” এই সমাবেশ থেকে ফেরার পথে কারও ওপর হামলা হলে বুধবার থেকে সারাদেশ অচল করে দেওয়া হুমকিও দেন তিনি। নিজেদের দাবির পাশাপাশি বিমান বন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানান নূর। হাজী মুহম্মদ হলের আবাসিক ছাত্র নূরুল হক নূর নিরাপত্তার অভাবে এক মাস ধরে হলে থাকছেন না। সমাবেশ শেষে একটি সাদা প্রাইভেটকারে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। -ডেস্ক