(দিনাজপুর২৪.কম) কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে রাজধানীর আট প্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পরিচালনা পর্ষদ এবং মন্ত্রিপরিষদসচিবকে ওই সুপারিশ জানিয়ে আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। দুদক সচিব মো. শামসুল আরেফিনের স্বাক্ষরে রবিবার মন্ত্রিপরিষদসচিব বরাবরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭২ জন শিক্ষক এবং সরকারি চারটি বিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে। দুদক বলছে, দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থেকে এই শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়েছেন এবং অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে বলেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি দমন কমিশন চিঠিতে বলা হয়েছে, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে এই শিক্ষকদের এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে, এক শাখা থেকে অন্য শাখায়, দিবা শিফট থেকে প্রভাতী শিফটে বা প্রভাতী শিফট হতে দিবা শিফটে নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলি করা যেতে পারে। এর আগে নভেম্বরের শুরুতেও ২৪টি সরকারি বিদ্যালয়ের ৫২২ জন শিক্ষককে একই কারণে বদলির সুপারিশ করেছিল দুদক।

সে সময় কমিশনের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই শিক্ষকরা ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ বছর পর্যন্ত এক বিদ্যালয়েই রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অর্থ উপার্জন করছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুদক।

দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল তাদের অনুসন্ধান শেষে ওই প্রতিবেদন দেয়। -ডেস্ক