-সংগ্রহীত(দিনাজপুর২৪.কম) ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলো বেশ জমতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকেই হাটগুলোতে ক্রেতাদের যথেষ্ট ভিড় থাকলেও বিক্রি তেমন হয়নি। দরদাম করেই ঘরে ফিরেছেন সবাই। কবে কিনবেন জানতে চাইলে অধিকাংশ ক্রেতাই জানান, শুক্র বা শনিবারে কিনবেন।

তবে ঈদের আগের দিন কেনার সম্ভাবনা অনেকের। বাবা-সন্তান মিলে অনেকে গরুর হাটে এসেছেন পছন্দের কুরবানির পশু ক্রয় করতে। রাজধানীর বিভিন্ন পশুরু হাট ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে দুই হাজার ৩৬২টি কুরবানি পশুর হাট বসেছে।

এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনে বসেছে ২৪টি হাট। রাজধানীর ২৪টি পশুর হাটে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে পশু বেচাকেনা। এসব হাটে পশু বেচাকেনা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। বিক্রেতাদের সাথে কতা বলে জানা গেছে, গতকাল থেকে পশুর হাট শুরু হলেও বেচাবিক্রি এখনো শুরু হয়নি।

যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার রাজধানীর চারপাশে হাট বরাদ্দ দিয়েছে ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন। দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ২৩টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী পশুরহাট বসেছে। এসব হাটের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪টি হাট রয়েছে।

রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনে পশুর হাটগুলো হলো— উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের হাট, খিলক্ষেত বনরূপা হাট, খিলক্ষেত তিনশ’ ফুট সড়ক সংলঘ্ন উত্তর পাশে, ভাটারা (সাঈদনগর) পশুর হাট, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইন্সের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) খালি জায়গা, হাট, মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টি ও উত্তর খান মৈনারটেক শহিদনগর হাউজিংয়ের খালি জায়গা।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কুরবানির পশুর হাটগুলো হলো— আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ঝিগাতলা-হাজারীবাগ মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগ রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ হাট, কামরাঙ্গীর চর ইসলাম চেয়াম্যান বাড়ি মোড়, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাট, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠ সংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, শনির আখড়া ও দনিয়া মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধুপখোলা ইস্ট অ্যন্ড খেলার মাঠ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠ সংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা ও আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া বাজার।

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, এবার ভারতের ঘরু কম আসায় দেশি ঘরের দাম অনেক বেশি। সবচেয়ে দামি গরু দেখা গেছে কমলাপুর বালুর মাঠে। জামালপুর পুলিশ লাইন এলাকা থেকে এ মাঠে সুমন নিয়ে এসেছেন ‘কিং’ নামে একটি বড় ষাঁড়। যার দাম হাঁকা হচ্ছে ২২ লাখ টাকা।

একই মালিকের আরেকটি গরুর নাম হচ্ছে ‘বাদশা’। যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে রঞ্জু আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী সুলতান নামের একটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।

এছাড়াও কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ছয় লাখ টাকা। পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাটে প্রচুর গরু থাকলেও বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মাঠ কমিটির সদস্য জহির আলম।

তিনি বলেন, পথাচ-সাতটি গরু বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, শনির আখড়া দনিয়া হাটের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। আশা করছি, আগামীকাল বা পরশু থেকে মূল বিক্রি শুরু হবে।

কমলাপুর বালুর মাঠে গরু কিনতে এসেছেন বাবুল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী। গরু পছন্দ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পছন্দ হয়েছে। বাট দাম বেশি। তাই আজ কিনব না, দেখি আর দুইদিন। পরে কিনব। এত দাম হলে কিভাবে কিনব? এমনই আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই ক্রেতা।

এছাড়াও অন্যান্য হাটের ইজারাদাররা জানান, হাটে গত রোববার থেকেই গরু আসতে শুরু করেছে। বন্যার কারণে ব্যবসায়ীরা এবার একটু আগেই হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। তবে হাটে লোকজন (ক্রেতা) কম, এখনো জমে ওঠেনি। ক্রেতারা হাট ঘুরে দেখলেও এখনই তারা কিনছেন না।

এদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোনো পশুর হাট বসতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি জানান, প্রত্যেক পশুর হাটে পর্যাপ্তসংখ্যক সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশ থাকবে। এ ছাড়া প্রত্যেক হাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। -ডেস্ক