(দিনাজপুর২৪.কম) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইটভাটার কয়লা বহনকারী একটি ট্রাক উল্টে ১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুইজনকে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। নিহতরা সবাই পুরুষ, তারা ওই ইট ভাটায় কাজ করতেন।  শুক্রবার (২৫জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় কাজী অ্যান্ড কোং নামের একটি ইটভাটার এ ঘটনা ঘটে বলে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নাজির আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ওই ট্রাকে করে ভাটার জন্য কয়লা নিয়ে আসা হয়েছিল। কয়লার স্তূপের পাশেই একটি ঘরে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল ভাটার মালিকপক্ষ। ঘটনা যখন ঘটে তখন শ্রমিকরা ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন। “ট্রাকের চালক কয়লা নামানোর জন্য ব্যাক গিয়ারে স্তূপের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারান। ট্রাকটি তখন উল্টে ওই ঘরের ওপর পড়ে।” এতে ঘটনাস্থলেই ১২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরেক শ্রমিক।আহত দুজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল ফজল মীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় পাঠানোর সব খরচ এবং আহতদের চিকিৎসার খরচ জেলা প্রশাসন বহন করবে।

নিহতরা হলেন- শিমুলবাড়ির মৃনাল চন্দ্র রায় (২১) ও মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় (১৯), নিজপাড়ার সুরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৩০), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম (২৮), সুনীল চন্দ্র রায় ছেলে তরুণ চন্দ্র রায় (২৫), কুড়াপাড়ের অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে দীপু চন্দ্র রায় (১৯), একই গ্রামের রাম প্রসাদের ছেলে বিপ্লব (১৯), কৃশব চন্দ্র রায়ের ছেলে শঙ্কর রায় (২২), কামিক্ষার ছেলে অমৃত চন্দ্র রায় (২০), রাজবাড়ি-দিয়াবাড়ির বিকাশ চন্দ্র রায়(২৮), একই গ্রামের ধলু চন্দ্র রায়ের ছেলে কনক চন্দ্র রায় (৩৫), পাঠানপাড়ার ফজলুল করিমের ছেলে মাসুম মিয়া (১৮) ও পাঠানপাড়ার নূর আলমের ছেলে মোহাম্মদ মোরসালিন (১৮)। -ডেস্ক