(দিনাজপুর২৪.কম) গত কয়েক বছরে একাধিকবারই এমন ঘটনা ঘটেছে যে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে একই ফ্লাইটে সফরে যাননি সাকিব আল হাসান। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে অফিশিয়াল ফটোসেশনেও ছিলেন না। তা নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয়েছে। সেসব ঘটনায় দলীয় সংহতিও ক্ষুণ্ন হয়েছে কখনো কখনো। তবে আগামীকাল সন্ধ্যায় দিল্লিগামী ফ্লাইটে যদি চড়ে না বসেন বাংলাদেশের টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, তাহলে সেটি ক্ষুণ্ন করবে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিই।

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের পরদিনই সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। ওই কথা বলে সমালোচিত হলেও ধর্মঘট-পরবর্তী নানা ঘটনাপ্রবাহে সাকিবের ভূমিকাই বরং রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। প্রশ্নও উঠছে যে তিনি আসলে কী চাচ্ছেন? ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর ২৫ অক্টোবর থেকে যথারীতি ভারত সফর সামনে রেখে নির্ধারিত সময়েই অনুশীলন শিবির শুরু হয় বাংলাদেশ দলের। কিন্তু প্রথম দিনেই তিনি সেখানে অনুপস্থিত এবং তাঁর অনুপস্থিতির ব্যাখ্যাও সেভাবে কেউ দিতে পারেননি। পরদিন অনুশীলনে এলেও দুটি প্রস্তুতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কোনোটিতেই তিনি নেই। কোচের অনুমতি নিয়েই নাকি খেলেননি তিনি। জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচ

থেকে বেশ কিছু খেলোয়াড়কে নিয়ে আসা হয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাতে। তাঁদের খেলার সুযোগ করে দিতে সাকিব খেলছেন না বলাও হয়। তবে এমন নয় যে এর আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ কারো খেলার ঘটনা নেই। কিন্তু তাঁরা না খেললেও দলের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে অন্তত থেকেছেন। সাকিব এখানেও ব্যতিক্রম। মাঠেও আসেননি এই অলরাউন্ডার।

এই না আসার সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্কও এখন আর অনাবিষ্কৃত নয়। সংবাদমাধ্যমে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানও বলেছেন যে শেষ মুহূর্তে ভারত সফরে কারো কারো যেতে না চাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে এবং তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই এমন খবরও চাউর হয়ে যায় যে ভারত সফরে যেতে চান না সাকিব। এই খবরকে ভিত্তিহীন বলেও উড়িয়ে দেননি কেউ। বিসিবির পক্ষ থেকে গতকাল যা যা বলা হয়েছে, তা আপাতত বিষয়টি কিছুটা আড়ালে রাখার চেষ্টাই। যদিও আকরাম খান থেকে শুরু করে কারো কারো বক্তব্যে তাঁর ভারত সফরে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তাও চাপা থাকেনি। শেষ পর্যন্ত যদি তিনি না-ই যান? তাহলে ভারত সফর ফাঁসিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ বিসিবি সভাপতি করেছেন, সেটিও খুঁজে  পাবে দৃঢ় ভিত। -ডেস্ক