(দিনাজপুর২৪.কম) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা তৈরির পর অবশেষে পতাকা বৈঠকে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খান। তবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

সীমান্তে হঠাৎ মিয়ানমারের অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানানোর পর ১৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে মিয়ানমারের সেনারা নোম্যান্সল্যান্ড থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার-ইউএনও সরওয়ার কামাল জানান, সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়া ঘেষে কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সেনা ও বিজিপি অবস্থান করেছিল। শুক্রবার সকালে তারা কিছুটা পিছু হটেছে।

শুক্রবার সকালে তুমব্রু সীমান্তের কোনাপাড়া নোম্যান্সল্যান্ডের আশ্রয় ক্যাম্পের ওপারে দুটি পিকআপে করে সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছে মিয়ানমার। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকের নেতৃত্বে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল ঘুমধুমের তুমব্রু যাচ্ছেন। পরিদর্শন শেষে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক সভায় জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও।

নোম্যান্সল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া কোনাপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা নূর হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেরবেলায় কয়েক দফায় মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের নোম্যান্সল্যান্ড ছাড়তে বলেছে মিয়ানমারের পুলিশ। মদের বোতল ছুড়ে মেরেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারেনি রোহিঙ্গারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও সরওয়ার কামাল জানান, সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়েই মূলত উত্তেজনা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকার এপারের মানুষের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদে জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বৈঠক করবেন।

গত কয়েক দিন ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ৫০ গজের মধ্যেই ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছেন মিয়ানমারের সেনারা। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল বাড়ায় মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বিজিপিও। এতে আতঙ্কে রয়েছে নোম্যান্সল্যান্ডের প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তের এপারে জনবল বাড়ায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিও।

বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তে ফাঁকা গুলিবর্ষণের পর পতাকা বৈঠকের জন্য মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের চিঠি পাঠানো হয়। -ডেস্ক