(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আবদুল আলিমের ছেলে ফিরোজ মো. তমাল ‘বাংলাদেশ জিহাদি গ্রুপ’ নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের অর্থদাতা বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশ।বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, তমালই সাহসী ও কর্মঠ যুবক আসাদুজ্জামান আবদুল্লাহ অনিককে খুঁজে বের করেন এবং তাকে এই সংগঠনের কমান্ডার বানান।

এর আগে গতকাল বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার আবদুল্লাহ ও তমালকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় তমালের ড্রয়ার থেকে দুটি পিস্তল ও আবদুল্লাহর কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ কমান্ডার আর তমাল অর্থদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তমালের বাবার প্রচুর টাকা থাকায় সেই টাকা জঙ্গিসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করেন। তমালের বাবা আবদুল আলিমের ঢাকা শহরে এখন পর্যন্ত ১৭টি বাড়ি রয়েছে এবং আরো কয়েকটি বাড়ি কেনার জন্য খুঁজছেন।

নতুন এই জঙ্গি সংগঠন পরিচালনার জন্য তারা পদ্মার ওপারে একটি চরকে বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সেই চরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করতেন সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তারা অর্থের বিনিময়ে এ কাজ করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে সিরিয়া ও আফগানিস্তানে গিয়ে জিহাদ করার পর দেশে এসে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থা দূর করার জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এক প্রশ্নের উত্তরে মনিরুল ইসলাম জানান, গত ৭ জুন ব্যাংক ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বনশ্রী এলাকা থেকে ছয়জন ও সূত্রাপুর এলাকা থেকে তিনজনসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ল্যাব কর্মচারীসহ বিস্ফোরক বিক্রির অভিযোগে মোট চারজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার আবদুল্লাহ ও অর্থদাতা তমালকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অভিযান পরিচালনাকারী গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, তমাল আইইউবি থেকে ট্রিপল ই বিষয় নিয়ে মাস্টার্স পাস করেন। আর আবদুল্লাহ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবিতে মাস্টার্স পাস করেন।(ডেস্ক)