কূটনৈতিক রিপোর্টার(দিনাজপুর২৪.কম) রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার এ তিন সিটিতে ভোট। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী এলাকায় জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা।প্রতীক বরাদ্দের পর ১০ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন তিন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীরা, যা চলে গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত। রাতে আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হলেও প্রার্থীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠানোসহ বিভিন্নভাবে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তিন সিটিতে নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটাররা যেন কোনো প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ইসির একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ইসি একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ কমিটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচন উপলক্ষে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩০ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত তিন সিটিতে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, তিন চাকার গাড়ির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে ২৮ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সেখানে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মাঠে থাকবে ৬৪৪ পর্যবেক্ষক
এই তিন সিটির নির্বাচন উপলক্ষে কমিশনের ৩৫টি পর্যবেক্ষক কমিটি থাকবে। ইসির জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন এ কমিটিতে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ৬০৯ জন পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ১৫টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ৫৯২ জন ও বিদেশি রয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষকও রয়েছেন।ইসির একাধিক সূত্র জানায়, রাজশাহীতে ১৯২ জন স্থানীয় ও সাতজন বিদেশি পর্যবেক্ষক, বরিশালে ২০৩ জন স্থানীয় ও তিনজন বিদেশি এবং সিলেটে ২০৩ জন স্থানীয় ও সাতজন বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন।

১৫ কেন্দ্রে ইভিএম
নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন সিটির ১৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রাজশাহী ও সিলেটের দুটি কেন্দ্রে ও বরিশালের ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন
তিন সিটিতে মোট ৪৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজশাহীতে ১৫ প্লাটুন, বরিশালে ১৫ প্লাটুন এবং সিলেটে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক জেলার জন্য ৪ প্লাটুন মজুদ রাখা হয়েছে।নির্বাচন উপলক্ষে ২৪৮ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ ফোর্সের সঙ্গে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন।-ডেস্ক