(দিনাজপুর২৪.কম) নিপুন কারিগর বলা হয় বাবুই পাখিকে। বাবুই পাখিরা শাররীক ভাবে ছোট হলেও তাদের জ্ঞান ভান্ডার রয়েছে প্রচুর। এক সময় গ্রাম-অঞ্চলে অবাধ বিচরণ ছিল তাদের। সুরলা শব্দে মন মাতানো কেচিংমিচিং আগেকার মত এখন চোখে পড়েনা বুদ্ধিমান বাবুই পাখি ও তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা। বয়স্করা জানান পাখিটি দেখতে ছোট হলেও বুদ্ধিতে সব পাখিকে হার মানায়। বৃষ্টির দিনে নিরাপদে নিজ বাসায় থাকে এই পাখি। লাগামহীন গুড়ি গুড়ি বাদলের হালকা হাওয়ায় দোলা চলে উচু তাল গাছে বাবুই পাখি দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। এরকম দৃশ্যপট জানালা দিয়ে দেখতে কি দারুন লাগতো। এখন এসব প্রকৃতিক দৃশ্য দেখা মেলে না গ্রামীণ পল্লীতে। আগে রাউজানসহ গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়তো দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা।
কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহামান বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী নিপুন বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ও তাদের বাসা। পাখিটি সু-নিপূণ ভাবে খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ কাঁশবনের লতাপাতা দিয়ে উুঁচু তাল গাছ ও খেঁজুর গাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করে বসতি করতো। পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি মজবুত। ছোট পাখি গুলো মেধাবী বলেই এরা সুন্দর বাসাবুনে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও প্রবল ঝড়ে বাতাসের সাথে মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হবে এমনটা মাথায় রেখে তারা বাসা তৈয়ারী করে থাকে। দেখা গেছে মুক্ত মনের বাবুই পাখির বাসাটি টেনেও ছেড়া খুব কঠিন। পাখি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায়, পছন্দের সঙ্গী খোঁজতে। সঙ্গী পছন্দ হলেই স্ত্রী বাবুইকে গাছের ডালে দু’জনই বাসা তৈয়ারী করে সংসার পেতে।
বিশেজ্ঞদের মতে, বাবুই পাখি খাবারের জন্য রাতের বেলায় ঝাঁক বেধে নামে। এসময় সুযোগ নেয় লোভি শিকারীরা। তারা জাল পেতে রাখে ধান ক্ষেতসহ সম্ভব্য স্থানে। পাতানো জালে আটকা পড়ে শত শত বাবুই পাখি। প্রতিটি পাখি ওজন এক’শ থেকে দেড়’শ গ্রাম। সামান্য মাংসের লোভে পড়ে এক শ্রেণীর মানুষ পাথি নিধন করে চলছে অহরহ। এই ভাবে বাবুই পাখি শিকার করায় দেশে পাখির বিলুপ্তির পথে। একদিকে এসব পাখি স্বীকার ও অন্যদিকে তাল গাছ ও খেঁজুর বিলুপ্তির কারণে। জানা যায়, পুরুষ বাবুই পাখি এক মৌসুমে ৬টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘর-সংসার করতে পারে ৬ সঙ্গীর সঙ্গে। তাতেই স্ত্রী বাবুই’র বাধা নেই। প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমের তাপ দেওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা দেয় এবং ৩ সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্ছা ছেড়ে উড়ে যায়। স্ত্রী বাবুই দুধ, ধান সংগ্রহ করে এনে বাচ্ছাদের খাওয়ায়। বাসাবুননের কারিগর বাবুই পাখিদের বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষা করার উপায় মানব সমাজে সচেতন করা। -ডেস্ক