এম.এ.সালাম, হেড অব নিউজ (দিনাজপুর২৪.কম) ষাটের দশকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বর্তমান বরেন্দ্র অঞ্চলে তৎকালীন সরকার বেশ কিছু ডিজেল চালিত বড় চাকা হ্যান্ডেল ঘোরানো গভীর নলকূপ স্থাপন করেছিল। এরই আওতায় দিনাজপুর সদর উপজেলার ১নং চেহেলগাজী ইউপি এলাকায় ৬টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। পাম্প হাউজ সংলগ্ন কিছু জমি অধিগ্রহণ করে নলকূপ বসানো হয়। পরে সেচ ক্যানেল স্থাপনের জন্য নকশা তৈরি হয় এবং নকশা অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ প্রদানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সে অনুযায়ী অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষ কিছু জমি অধিগ্রহণের আদেশ প্রদান করেন। এই অধিগ্রহণ আদেশভূক্ত কিছু জমির মাালিক ক্ষতিপূরণ প্রাপ্ত হলেও বেশির ভাগই মূল্য পাননি। পরবর্তীতে ৮০’র দশকে কৃষি জমি সমূহে বসতি হয়ে যাওয়ায় ক্রমে নলকূপ বন্ধ হয়ে যায়। স্থাপিত ক্যানেল সমূহ বেদখল হতে শুরু করে। কিছু প্রভাবশালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মচারীর যোগসাজসের ফলে অধিগ্রহণের মূল্য ফেরত পায়নি। এমনকি অনেক জমি মালিকই জমির দখল ফিরে পাননি। এ নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে প্রভাবশালী জবরদস্তকারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মী, সর্বশেষ জরিপ কার্যক্রম চলাকালীন জরিপকারীদের দ্বারা খোঁজ নিলে অনেক দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু খোঁজ নেবে কে? জমি যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হয় সেক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন খবর নেই মূলে মালিক যদি আসলে হকদার হয় সেটা প্রক্রিয়াগত কারণের সূত্রে জবর দখলকারীর দৌরাত্ম বঞ্চিত। নমুনা স্বরূপ পশ্চিম শিবরামপুর মৌজার ৪নং গভীর নলকূপ এলাকায় সিএস ৬০ দাগের ২৪ শতক জমি অধিগ্রহণ মূল্য পরিশোধিত হয় নাই। এই জমিটির মূল মালিক আজ অবধি আশ্রয় পাওয়ার আশায় সরকারী খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন। কিন্তু জমি দখলে যেতে পারছেন না প্রভাবশালীদের দৌরাত্মে। অথচ প্রভাবশালীরা সেখানে ইটের দেয়াল তুলে ভোগ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাথা ব্যাথা নেই। তারা কষ্মিনকালেও দেখতে আসে না খোঁজও নেয় না মালিকানা আছে কিনা সেটাও জানা যায় না। জরিপের অফিসে মামলা হলে সেই মামলা লয়েন প্রভাবশালীরা। এই অন্যায়ের কোন প্রতিকার হয় না। যার কারণে ভূমি জরিপ প্রশ্নের মুখে থাকায় রেকর্ড ঝুলে আছে প্রায় ১৫ বছর। দাবীর যৌক্তিক প্রমাণ এবং সরেজমিনে তদন্ত করে সুরাহা ছাড়া কোন উপায় নেই। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন দিনাজপুরের সতেচন মহল।