এম. আর. মিজান ( দিনাজপুর২৪.কম) আজ ৭ আগষ্ট শুক্রবার দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট আয়োজিত স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এ্যানহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইপি)র অর্থায়নে ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এবং দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর আয়োজনে “ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কিলস্ এন্ড ট্রেনিং এ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট এর প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইমরান। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ঘোষণা করেছিল। ভীষণ-২০২১ তার মধ্যে একটি বড় উদ্যোগ ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। সরকারের সকল সেবা সমূহ বাংলাদেশের সকল জনসাধারণের হাতের নাগালে নিয়ে যাওয়া। এরই মধ্যে আমরা হয়েছি নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। অর্থাৎ দেশ এগিয়ে গেছে। তথ্য প্রযুক্তির এই সেবাকে আরও ত্বরান্বিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে কারিগরি শিক্ষা। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করব। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত বেকাররা জাতির বোঝা নয়। বরং তারা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজ বা জাতিকে অনেক সেবা দিতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত বেকাররা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। আর কারিগরি শিক্ষিত বেকার অনেক সময় ঘরে বসে উপার্জন করছে বৈদেশিক মুদ্রা। যা অবদান রাখছে বৈদেশিক রিজার্ভে আর সে সাথে জিডিপিতে। ঘরকন্যা থেকে শুরু করে মঙ্গল গ্রহে অভিযান সবকিছুই যখন জিডিটাল তখন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ডিজিটাল হবে, এর কোন বিকল্প নেই। আর এর প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষা। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে দরকার কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবল, আর এর জন্য প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষা। তাই বর্তমান সরকার হাতে নিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের নানামুখী পদক্ষেপ। কারিগরি শিক্ষাই এনে দেবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মুক্তি। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী সারোয়ার আহমেদ লিয়ন বলেন, আজ ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থান করছে। কিন্তু ঐ ১ কোটি জনগণই যদি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতো তাহলে তাদের কষ্টার্জিত অর্থের পরিমাণ হতো অনেক বেশী। তখন দেশ ও জাতি উপকৃত হতো পাশাপাশি বৈদেশিক রিজার্ভ আরো বৃদ্ধি পেতো। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ এনায়েত হোসেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক আ.ন.ম সালাহ উদ্দিন খান, দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী, শিল্পপতি প্রমুখ। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আমিনুর রহমান সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ও ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান এ.এইচ.এম জাকারিয়া শাহীদ।