-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) ফেনী ও বগুরার তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সব মনোনয়নপত্রই রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছ। বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অবশ্য বলেছেন, তাদের নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি ‘সরকারের নীল নকশার অংশ’।

এরআগে গত সপ্তাহে হাই কোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এই অবস্থায় প্রশ্ন জেগেছে কারা হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী।

ফেনী-১

ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিএনপির ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি নূর আহমেদ মজুমদারও এ আসনে ধানের শীষে ভোট করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় তা বাতিল হয়ে গেছে।

ফেনী-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাসদের শিরীন আখতার এবারও ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষে প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্রও বৈধতা পেয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ২৯ নভেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ সময় পর্যন্ত মোট ১৪ জন এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বৈধতা পেয়েছে দশজনের মনোনয়নপত্র।

খালেদা জিয়া, নূর আহমেদ মজুমদার ছাড়াও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান ও আবুল বাশার চৌধুরীরমনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে।

বৈধতা পেয়েছে জাসদের শিরীন আখতার, বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের শাহরিয়ার ইকবাল, গণফোরামের এবিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভুঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) শেখ আবদুল্লাহ ও খায়রুল বাশার মজুমদার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের তারেকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কাজী নুরুল আলমের মনোনয়নপত্র।

বগুড়া-৬

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদার মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেলেও ফখরুলের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন, এ আসনে জমা পড়া ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে তিনটি বাতিল হয়ে গেছে। ফলে বৈধ প্রার্থী থাকছেন আটজন।

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিরোধী দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ওমরের মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ায় জাতীয় পার্টির এই নেতা এবারও মহাজোটের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বগুড়ার পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমানও এ আসনে ধানের শীষের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রত্যয়ন না থাকায় তা বাতিল হয়ে গেছে।

বগুড়া-৭

বগুড়ার গাবতলী-শাজাহানপুর আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তার বিকল্প প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ বলেছেন, মিল্টন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে মিল্টন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

খালেদা ও মিল্টনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকল না।

জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল দলীয় মনোনয়ন না পেলেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রত্যয়ন না থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করে দিয়েছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী এবারও এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী। আওয়ামী  লীগের মোস্তফা আলম নান্নু মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয় প্রত্যয়ন না থাকায় তা বাতিল হয়ে গেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ আসনে জমা পড়েছিল ১৪টি মনোনয়নপত্র, তার মধ্যে সাতটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় বৈধ প্রার্থী থাকছেন সাতজন।

উল্লেখ্য, রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান ফেনী-১ আসনে এবং বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ার বিষয়টিকেই মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।