(দিনাজপুর২৪.কম) গতিশীল, কর্মীবান্ধব নেতাদের নিয়েই আগামী কাউন্সিলে দলকে ঢেলে সাজাতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এতে একদিকে থাকবে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা এবং নেত্রীর আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ মিশন বাস্তবায়নে সাহসী ভূমিকা পালন করার সাফল্য। ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখেই কমিটি গঠন করা হবে। এর মধ্যে দলের ভিতরে নানামুখী লবিং থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় কারা আসবেন তা চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে অনেকেই আগ্রহী। কিন্তু সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওবায়দুল কাদের ও কাজী জাফরুল্লাহর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ওবায়দুল কাদের নিজে আগ্রহী না হলে এ পদে লাইমলাইটে আসতে পারেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। এবার যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের পদসংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। সে অনুযায়ী এখানে পদগুলোতেও নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে। যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজমের নাম যুগ্ম সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যেই দুজন ব্যাপক জনপ্রিয়। গত কমিটির কেন্দ্রে ঠাঁই পাওয়া আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জ ও  গাজীপুরেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার অভিভাবকত্বে চলে ফেনীর আওয়ামী লীগ। বৃহত্তর নোয়াখালীর আওয়ামী রাজনীতিতেও আলাউদ্দিন নাসিমের নাম কর্মীদের মুখে মুখে। এবার ভালো দায়িত্বে তাকে দেখা যেতে পারে। ঢাকার দুই সিটির দুই প্রধান সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও ড. আবদুর রাজ্জাকেরও কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম আরও ভালো অবস্থান পেতে পারেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীমও সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পদোন্নতি পেতে পারেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অভিষিক্ত হওয়ার পর দলীয় কর্মকাণ্ডে এনামুল হক শামীম ছিলেন বরাবরই সক্রিয়। বর্তমান দফতর সম্পাদ ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীমকুমার উকিল ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী এমপি, এস এম কামাল হোসেন কমিটিতে ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন। এমন পূর্বাভাস পাওয়া গেছে দলের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে। বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও থাকবেন ভালো অবস্থানে। কেন্দ্রীয় উপকমিটির দু-এক জনের ভাগ্য খুলতে পারে। অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। কেন্দ্রে আবার ফিরে আসতে পারেন সাবের হোসেন চৌধুরী। প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ পড়তে পারেন নূহ-উল আলম লেনিন, সতীশচন্দ্র রায়। প্রেসিডিয়ামে আসতে পারেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরাসহ অনেকের ভাগ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। পদ হারাবেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। যারা গত দুই কমিটিতে কোনো দক্ষতা দেখাতে পারেননি, অদক্ষ এবং অসাংগঠনিকরা এবার পদ পাবেন না। এবারের কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনেকেরই ঠাঁই হবে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। শেখ হাসিনা মনে করছেন দেশব্যাপী দলে তারুণ্যের সঞ্চালন ঘটাতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ভূমিকা রাখতে পারবেন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে আবদুল মান্নান, শাহে আলম, মঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহীম, ইসাহাক আলী খান পান্না, বাহাদুর বেপারি, অজয় কর খোকন, লিয়াকত শিকদার ও নজরুল ইসলাম বাবু এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাচ্ছেন বলে দলের হাইকমান্ডের আভাস। কেন্দ্রে ছাত্রলীগের সাবেক এসব নেতা কেউ কেউ থাকবেন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। দলের হাইকমান্ড মনে করছে, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ছাত্রলীগের সাবেক এসব নেতা সাহসী ভূমিকা রেখেছেন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি তৃণমূলে সংগঠিত করতেও এসব ছাত্রনেতার অনন্য ভূমিকার কথা বিবেচনায় এনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মূল্যায়ন করতে চান শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি কয়েকজন তরুণ সংসদ সদস্য এবার ঠাঁই পেতে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। দলীয় সূত্রমতে, তারুণ্যনির্ভর কমিটি গঠনে শেখ হাসিনা নানান দিক বিশ্লেষণ করছেন। সংগঠনে অলস ও বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের আভাস। ঢাকার দুই মেয়রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। আগামী ১০ ও ১১ জুলাই দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলে এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর কিছুটা বাড়বে বলেও দলীয় সূত্রের আভাস। ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির আকার বেড়ে হতে পারে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩টির বদলে এবার ৫টি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ৭-এর জায়গায় ১০টি হতে পারে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সামনে রেখে বিভিন্ন উপকমিটি বৈঠকে বসছে নিয়মিত। জেলা পর্যায়ের সম্মেলনগুলো শেষের পথে। দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ভিতর দিয়েই দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি কমিটি উপহার দিতে চান শেখ হাসিনা। কাউন্সিল সম্পন্ন করতে কেন্দ্র থেকে গঠিত বিভিন্ন উপকমিটি কাজ করছে।- ডেস্ক. সূত্র : বা. প্রতিদিন