বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। -পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) সিলেট সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর মেয়র হন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। দ্বিতীয় মেয়াদেও মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। মেয়রের আসনে না থাকলেও সিলিটবাসীর কাছে ‘মেয়র কামরান’ হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান অল্প বয়সেই রাজনীতিতে পা রাখেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাবস্থায় তিনি সিলেট পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। জনপ্রিয়তার কারণে এলাকাবাসীো জোর করে তাকে কমিশনারে দাঁড় করান।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান টানা তিনবার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। সর্বশেষ সম্মেলনে তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সরে যান। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের হাত ধরে ছাত্র জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন কামরান। ১৯৬৮-৬৯ এর উত্তাল সময়ে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মিছিল যাওয়ার শুরু। সরকারি চাকরিজীবী বাবা-প্রথমে আপত্তি করলেও এক সময় মেনে নেন।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেটের জিন্দাবাজার দুর্গাকুমার পাঠশালা ছিল তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কামরান। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়ই ৬৪২ ভোট পেয়ে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার ৩নং তোপখানা ওয়ার্ড থেকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ পৌর কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। কমিশনারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই কামরান এমসি কলেজে বিএ-তে ভর্তি হন। মদন মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে স্নাতক শেষ করেন তিনি।

২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাগারে যেতে হয় কামরানকে। তখন ১৮ মাস তিনি কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থেকেই ২০০৮ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন কামরান। নির্বাচনের দিনও তিনি কুমিল্লা কারাগারে বন্দী ছিলেন। এ নির্বাচনে ৮০ ভাগ ভোটই কামরানের বাক্সে জমা পড়েছিল। সিটি করপোরেশনের সকল ভোটকেন্দ্রে বিজয়ী হয়ে তিনি নজির সৃষ্টি করেন। এমনকি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীর জামানতও বাতিল হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কীর্তি আর কেউই গড়তে পারেননি।

তবে সিলেটের জনপ্রিয় এ নেতা ২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশেনের তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে যান। ২০০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও তিনি আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হারেন। সূত্র : আ. সময়