(দিনাজপুর২৪.কম)ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৃটিশ এমপিরা। বুধবার বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড ইটস ফিউচার’ শীর্ষক এ বিতর্কে বৃটিশ এমপিরা এসব কথা বলেন। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। বৃটিশ পার্লামেন্টের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের বাংলাদেশ বিষয়ক কমিটির সভাপতি অ্যান মেইন এমপির উদ্যোগে স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ বিতর্কে ২০ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন। ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস প্রতিমন্ত্রী হুগো সিয়ার এমপিদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলার একটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুগো সিয়ার বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জালিয়াতি ও সহিংসতাপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, গত বছরের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে নাশকতার ঘটনায় বিরোধীপক্ষের লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তখন শতাধিক লোকের প্রাণহানির পর থেকেই যুক্তরাজ্য বারবার দুইপক্ষকে সহনীয় আচরণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। গত কয়েক দিন লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃটিশ এমপিরা বলেছেন, বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতি বিদেশে ছড়িয়ে পড়া ভাল লক্ষণ নয়। ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস মন্ত্রী বলেন, দেশটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বাকস্বাধীনতা পরিস্থিতির লক্ষণীয় কোন উন্নতি হয়নি। আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না। বিতর্কে কনজারভেটিভ দলীয় এমপি অ্যান মেইন বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সিটি মেয়র নির্বাচনে যা হয়েছে তা সবচেয়ে দুঃখজনক। বাংলাদেশে কখনও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন  হয় না। রাজনৈতিক সংঘাতকে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে তিনি বলেন, কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিলের ঘটনায় বিএনপি অসন্তুষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি ভয়াবহ সমস্যা উল্লেখ করে অ্যান মেইন যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে প্রতিবছর যে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সাহায্য প্রদান করছে তা সঠিক কাজে লাগছে কিনা তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় উল্লেখ করে  জিম ফিটজপ্যাট্রিক এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ একসময় জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। এখন বিএনপি তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনীতি করছে। বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ক্ষমতার পালাবদলের ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে কেরি ম্যাকার্থি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রয়োজন। বিতর্কে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের অধিকার, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের মতো বিষয়গুলোয়ও গুরুত্ব পায়। এমপিরা বলেন, একদিকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি দুর্ঘটনারোধে অবকাঠামো নির্মাণেও সঠিক নিয়ম মানা জরুরি। তারা বলেন, অবকাঠামো তৈরিতে দুর্নীতি রোধ করা না গেলে ভবন ধসের মতো দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না। শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিভক্তিকেও তারা শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে চিহ্নিত করেন। বিতর্কে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা এবং সামপ্রতিক মানব পাচারের বিষয়েও আলোচনা হয়। ডেস্ক)