(দিনাজপুর২৪.কম) আইএসআইয়ের সঙ্গে বৈঠক ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, লন্ডনে বসে তারেক রহমান
আইএসআইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ঢাকায় মির্জা ফখরুল পাকিস্তানি দূতাবাসে গোপন বৈঠক করেছেন। এইসব বৈঠকের অর্থ হচ্ছে তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন। নোয়াখালীতে এক প্রেস ব্রিফিং-এ ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ওদিকে, ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৈঠকের খবর জঘন্য মিথ্যাচার। এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তারেক-ফখরুল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: ওবায়দুল কাদের
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নির্বাচন বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে গেলেও নির্বাচনী ট্রেন কারো জন্য থেমে থাকবে না। বিএনপি দুর্নীতিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় তারা আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।

বিএনপি সংকটে পড়বে। কারণ তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। তাই তাদের মনোনয়ন বঞ্চিতরা অভিযোগ করছে, হামলা করছে। তিনি এ বিষয়ে নিজেদের দল নিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো চিন্তা নেই। বিদ্রোহীদের প্রত্যাহারে আমরা কাজ করছি। দলের বাইরে কেউ ক্ষোভ দেখাবে না, আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমরা স্বস্তিতে আছি। কারণ আওয়ামী লীগ নির্বাচন বিষয়ে হোমওয়ার্ক করেছে, আমাদের টিমওয়ার্ক আছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আলম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল সহ জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

মওদুদ কোনো উন্নয়ন করেন নি
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিস্টার মওদুদ বারবার ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু কোনো উন্নয়ন করেন নি। আমার এলাকায় ৯২ ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমাদের ওয়াদা অনুযায়ী আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। বিএনপি আমলে নেতাকর্মীরা মা-বাবার জানাজায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারে নি। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় তার নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলিন গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী ওমর ফারুক, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

আমরা এখন থেকে মামলা করবো: ফখরুল
পাকিস্তান হাইকমিশনে বৈঠক ও আইএসআইয়ের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্পর্কের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন পরিকল্পিত ও সুচিন্তিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপপ্রচারে মেতে উঠেছে সরকার। এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখন থেকে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, পাকিস্তান হাইকমিশনে এ ধরনের কোনো বৈঠক বিএনপির সঙ্গে হয়নি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটা শুধুমাত্র বিএনপিকে হেয় করার জন্য প্রচার করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের মতো দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও একটি দলের সাধারণ সম্পাদকের মুখ থেকে এ ধরনের কথা মানায় না। আওয়ামী লীগের এই প্রবণতা আছে যে, বিএনপিকে এমন সংস্থা বা দেশের সঙ্গে যুক্ত করে বিপদে ফেলতে চায়।

আমরা সব সময় জনগণের মতামত নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছি। কোনো সংস্থা বা দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। ওবায়দুল কাদের ও আবদুর রহমানের দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। তিনি বলেন, ভেরিফাইড পেইজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে দেয়া কার্টুুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কার্টুন দিতেই পারে। কিন্তু আমরা কার্টুুন দিলেই মামলা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তিন শতাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য বিরোধী দল ও খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা, নোংরা ছবি ছড়ানো এবং মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প তুলে ধরা। বিএনপির নেতাদের ছবি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এই ধরনের চরিত্রহনন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। আমরা এখন থেকে মামলা করা শুরু করবো। দেখবো সরকার সেগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটা অসমতল ভূমিতে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সুচিন্তিতভাবে ভয়াবহ জঘন্য রকমের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা করতে গিয়ে তারা সরকারি অর্থে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে পারি নি। আমাদেরকে নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। এজন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারি নি। শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন পাওয়া সত্ত্বেও মুক্তি দেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যদি রক্ষা করতে চান তাহলে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ দিন। অন্যথায় দেশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুুখীন হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা দেখছি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। কোথাও কোনো সমতল ভূমি নেই। আমরা ভয়াবহ প্রতিকূলতা ও খানাখন্দে ভরা অসমতলভূমিতে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এখন আগের মতোই মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।

এজন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে। জামিনের জন্য তারা বারবার পিছিয়ে পিছিয়ে দিয়ে এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছে যে, আমাদের সব শীর্ষস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা কারাগারে আটক রয়েছেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান থাকবে, সবাই যাতে প্রচারণা চালাতে পারে, কাজ করতে পারে তার পরিবেশ তৈরি করুন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নির্বাচনে প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান তিনি। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। মিডিয়াকে নিরপেক্ষ আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের কিছু নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিক্ষোভ করলে সেগুলো বড় করে ছাপা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নিজেদের দ্বন্দ্বে অনেক খুন হলেও মিডিয়ায় সেগুলো ফলাও করে প্রচার হয় না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে দেশ গণতান্ত্রিক থাকবে কি থাকবে না। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা জিএম ফজলুল হক, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আউয়াল খান, আমিরুজ্জামান শিমুল, এসএম জিলানী, তাবিথ আউয়াল ও শামসুজ্জামান সুরুজ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে আজ প্রচারণা শুরু করবেন ফখরুল
এদিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচার শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এই কথা জানান। তিনি বলেন, আমি কালকে ঠাকুরগাঁও যাবো। সেখানে ভোটের প্রচারে অংশ নেবো। এরপর বগুড়াও যাবো। দুইদিন থেকে ঢাকায় ফিরে আসবো। একাদশ নির্বাচনে মির্জা আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। -ডেস্ক